অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) এক সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১ জুন) দুপুরে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় দুর্নীতি দমন আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) এবং মানি লন্ডারিং আইনের ৪(২) ও ৪ (৩) ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলার পরপরই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদক থেকে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও হিসেবে রয়েছেন বাদী নিজেই।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শেখ কামরুজ্জামান নামে আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার একটি অভিযোগ দুদক কার্যালয়ে আসে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। পরে কামরুজ্জামানকে তার সম্পদের বিবরণী জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। একাধিকবার তাকে দুদক কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শেষে তিনি সম্পদের বিবরণী জমা দেন। সম্পদের বিবরণীর সত্যতা নিরূপণে তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া ও বর্তমান নিবাস রাজশাহীতে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক অনুসন্ধান করা হয়।
দুদক সূত্রমতে, অনুসন্ধানে কামরুজ্জামানের আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের ব্যাপক অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধান শেষে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৭৬ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৬ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন দেওয়া হয়। সে মোতাবেক বুধবার মামলাটি করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের নোটিশ প্রাপ্তির পর কামরুজ্জামান তার অবৈধ সম্পদ ও সম্পত্তি গোপন করার লক্ষ্যে তড়িঘড়ি করে মালিকানা স্থানান্তর করেন। সম্পদের প্রকৃতি বদল করেন। একই সঙ্গে উৎস গোপন করার বিভিন্ন চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে আরডিএতে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ লাভ ও চাকরি প্রাপ্তির অভিযোগে আরও একটি দুর্নীতির মামলা রাজশাহীর স্পেশাল জজ আদালতে চলমান আছে।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুদক। এই মামলায় তিনি উচ্চ আদালতে জামিনে থাকার কথা দাবি করেছেন। যদিও উচ্চ আদালতের আদেশের কোনও কপি গত দুই বছরেও তিনি আদালতে দেখাতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পিপি সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, শেখ কামরুজ্জামান বর্তমানে নগরীর পবা নতুনপাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তবে কুষ্টিয়া জেলার বারখাদা এলাকায় তার স্থায়ী নিবাস। বাবার নাম শেখ ছলিম উদ্দিন। তিনি কুষ্টিয়া এলাকাতেও বিপুল সম্পদ করেছেন। আবার রাজশাহী মহানগরী এবং পবা এলাকায় জমি বাড়ি ও পুকুর জলাশয় কিনেছেন। যা তার বর্তমান জ্ঞাতআয়ের সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ।
দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বলেন, অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে শেখ কামরুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।









