কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনের বন্যায় উপজেলার ৭৭ গ্রামের ১৪ হাজার ১৮০ পরিবারের ৫৬ হাজার ৭২০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্যত্র।
মঙ্গলবার (২১ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত যমুনা নদীতে পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বাঙালি নদীর পানি। এর আগে বিকালে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৭ জুন যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করে। গত চার দিনে উপজেলার দক্ষিণ শংকরপুর, পুর্ব ধারাবর্ষা, পশ্চিম ধারাবর্ষা, কেষ্টিয়ার চর, কোমরপুর, চাঁনবাড়ি, মাঝবাড়ি, কালাইহাটা, পৌতিবাড়ি, চরমাঝিরা, হাতিয়াবাড়ি, কালিয়ান, আগবোহাইল, নিজবোহাইল, আওলাকান্দি, কাজলা, বাওইটোনা, কুড়িপাড়া, পাকেরদহ, উত্তর টেংরাকুড়া, দক্ষিণ টেংরাকুড়া, পাকুড়িয়া ও ময়ূরের চরসহ ৭৭ গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে। ইতোমধ্যে ২৯৬ বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দুর্গতরা নৌকায় সহায়-সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ১০ হাজার ২৫০টি টিউবওয়েল পানিতে ডুবে যাওয়ায় গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ১১ হাজার গবাদিপশু পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পশুখাদ্য ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশুগুলো খাবার সংকটে রয়েছে। গত কয়েকদিনে ৫৫০টি ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। ডুবে গেছে উপজেলার ৬৮টি কাঁচা রাস্তা,
তিনটি পাকা রাস্তা ও নয়টি ব্রিজ। ৩১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। দুই হাজার ৪৬৯ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে পাট দুই হাজার হেক্টর, আউশ ধান ৪৫০ হেক্টর, ভুট্টা চার হেক্টর ও সবজি ১৫ হেক্টর। বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় উপজেলার ৩১টি প্রাথমিক ও সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে।
উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, তার
ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ বাড়িঘর নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে মানিকদাইড় গ্রামে ১৫০টি ও সুজাতপুর গ্রামে ১০০ টি।
বোহাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খাঁন জানান, গত দুই দিনে তার ইউনিয়নের বোহাইল ও কাজলা গ্রামের ৪৬টি বাড়িঘর যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শতাধিক বাড়িঘর। এলাকার মানুষের কষ্টের শেষ নেই।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, নদীভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের মানিকদাইড় গ্রামে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অপরদিকে, সোনাতলা উপজেলায় যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চরবাসীরা সহায়-সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় চলে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এই উপজেলায় ৫৩২ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, রোপা আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক এনামুল হক বলেন, জেলার মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৭১০ হেক্টর, সোনাতলায় ৯৬ হেক্টর ও ধুনট উপজেলায় ২৮ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।









