জয়পুরহাট রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে চলন্ত ট্রেন থেকে নামার চেষ্টাকালে পা পিছলে পড়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন কুয়েটের বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী ছাত্র তানভীর মো. রেজওয়ানুল হক রাহুল (২৩)। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, রাহুল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের নাটমরিচাই কালীপাড়ার মৃত এ টি এম শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। প্রায় এক যুগ আগে বাবার মৃত্যুর পর তিনি দাদা আফজাল হোসেন মাস্টারের কাছে থাকতেন। ২০১৬ সালে শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ নিয়ে এসএসসি পাস করেন। ভর্তি হন বগুড়া শহরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখান থেকে ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।
ছোটবেলা থেকেই প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ভর্তি হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। সেখানে ফুফু রিমার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। বর্তমানে তিনি তৃতীয় বর্ষে লেখাপড়া করতেন। মেধার সাক্ষর রাখায় প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বৃত্তি দেওয়া হয়।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি মোক্তার হোসেন জানান, কুয়েটের ছাত্র রাহুল ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাই শুক্রবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ট্রেন জয়পুরহাট স্টেশনে দাঁড়ালেও তিনি টের পাননি। ট্রেন স্টেশন ত্যাগ করার সময় বুঝতে পারলে তিনি দ্রুত ব্যাগ নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে প্লাটফর্মে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় পা পিছলে ট্রেনের নিচে চলে গেলে কেটে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সুরতহাল শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্টেশন মাস্টার থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন।
খালাতো ভাই ব্র্যাক ব্যাংক নওগাঁ শাখার কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, ৬/৭ দিনের ছুটিতে রাহুল বাড়িতে আসছিলেন। রাত ১০টার দিকে খুলনা স্টেশনে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। জয়পুরহাট স্টেশনে নেমে সেখান থেকে বগুড়ার শিবগঞ্জের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে দাদা আফজাল হোসেনের সঙ্গে তার কথা হয়। অনেকদিন পর রাহুল আসার খবরে বাড়িতে তার পছন্দের রান্না করা হয়।
তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জয়পুরহাট রেল স্টেশন থেকে রাহুলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে গিয়ে লাশ বগুড়ার শিবগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তার মৃত্যুতে শুধু আত্মীয়-স্বজনের মাঝে নয়; পুরো গ্রামের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা রাবেয়া খাতুন ও দাদা আফজাল মাস্টার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। কেউ রাহুলের এভাবে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
স্বজনরা জানান, খুলনার ফুফু রিমা এলে এশার নামাজ শেষে জানাজা হবে। এরপর লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।









