‘প্রধানমন্ত্রীকে দেখে চোখ শীতল হয়েছে, খুব ভালো লাগছে’

রাজশাহী প্রতিনিধি
২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:২৪আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:২৪

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকেসহ গত ১০ বছরে পঞ্চমবারের মতো রাজশাহীতে জনসভা করেছেন। রবিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের (বর্তমান হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। নির্বাচনি এই জনসভায় রাজশাহীবাসীকে নৌকা প্রতীকে ভোটের ওয়াদা করানোসহ নেতাকর্মীদের দিয়েছেন নানান দিক-নির্দেশনা।

দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাজশাহীর স্থানীয় নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষও। নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের চাঙা করতেই দলীয় সভাপতির এই আগমন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

রাজশাহীর স্থানীয় নেতারা বলছেন, পাঁচ বছর পর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী এসেছেন। এর আগে ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী এসেছিলেন। এ ছাড়াও ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চারঘাট উপজেলায়, ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পবা উপজেলায়, ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে এবং আজ জনসভা করলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার এই আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা ছিল। এই উদ্দীপনা আগামী নির্বাচনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাদ্রাসা মাঠে এসেছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুজন আলী। তিনি বলেন, ‘আমি কোনও দলের সমর্থন করি না। রাজনীতি বিষয়টাকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে নিই না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীতে আসছেন, তাকে ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগে। তাই তাকে দেখতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুপ্রাণিত করেছে।’

পবা উপজেলা থেকে সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমি দিনমজুর। একদিন না খাটলে পেটে ভাত জোটে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য অনেক করেছেন। চালসহ অনেক সুবিধা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে উন্নয়নও করে যাচ্ছেন। সেই জায়গা থেকে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীকে দেখে চোখ শীতল হয়েছে। খুবই ভালো লাগছে।’

বাঘা উপজেলার ঝিনা গ্রামের আরশাদ আলী (৮০) বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অনেক আগে রাজশাহীতে এসেছিলেন। ওই সময় ট্রেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ট্রেন নিরাপদ তাই ট্রেনে জনসভায় এসেছি। শোনেন ভাই, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশে উন্নয়ন হয়। সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হয়। তার বিকল্প নেই। আমরা আগামীতেও তাকে চাই। এই জনসভায় স্মরণকালের বড় সমাবেশে মানুষের স্রোত নেমেছিল। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। মাঠে তিল ধারণের অবস্থা ছিল না। শুধু জনসভাস্থলই নয়, গোটা শহর পরিণত হয়েছিল জনারণ্যে। প্রতিটি রাস্তা ও অলিগলিতে ছিল মানুষ আর মানুষ।’

রাজশাহী জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসরিন আখতার মিতা বলেন, ‘দীর্ঘদিন করোনা থাকায় অনেক দেশে একটা স্থবিরতা ছিল। এতে করে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীসহ গণমানুষের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস থেকে তিনি বাইরে বের হচ্ছেন। আর রাজশাহীতেও তিনি দীর্ঘদিন পর এলেন। তাই নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আবেগ ও উচ্ছ্বাস কাজ করছিল- তাকে সরাসরি দেখা ও ভাষণ শোনার জন্য।’

এই নেত্রী বলেন, ‘তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আমরা শুনেছি। তিনি ভোটও চাইলেন। তার ডাকে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ভালোভাবে সাড়া দিয়েছেন। এটা আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সারা দেশে তার নেতৃত্বে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজশাহী ব্যতিক্রম ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলে দেশের চলমান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এমনটাই এই বিশাল জনসভায় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন।’

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘আগের মতো এবারও জনসভায় নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। শুধু শহর নয়, রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে সকল নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবেসে সমাবেশে এসেছেন। এই সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল। সব বিভাজন ভুলে আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রীর জন্য কাজ করে গেছেন। এ জনসভার রেশ দীর্ঘদিন থাকবে।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর এই মাদ্রাসা মাঠে অনেকবার এসেছেন, কখনও সরকারি দলে, আবার কখনও বিরোধী দলে থাকতে এসেছেন, জনসভা করেছেন। এবারের জনসভায় এই মাঠে যে পরিমাণ মানুষ হয়েছিল, তার থেকে আট দশ গুণ বেশি মানুষ বাইরেই ছিল। আওয়ামী লীগ কর্মীরাও তার আগমনে অনেক উচ্ছ্বসিত ছিল। ছোট-খাট বিভাজন ভুলে দলের জন্য কাজ করার মানসিকতা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের মধ্য দিয়ে আরও সুদৃঢ় হবে।’

/এফআর/
সম্পর্কিত
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
মুক্তি পেলেন সাবেক মেয়র আইভী
সর্বশেষ খবর
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মিষ্টির দোকানে জরিমানা, কী ঘটেছিল ইউএনওর সঙ্গে
মিষ্টির দোকানে জরিমানা, কী ঘটেছিল ইউএনওর সঙ্গে
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের