মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজ্জাম্মেল হক বলেছেন, আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তারা বেঁচে থাকতে মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করতে দেবো না; মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত হতে দেবো না। যারা পাকিস্তানকে ভালো বলে, তারা পাকিস্তানে গিয়ে থাকুক; এদেশে থাকতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করতে হবে।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ নিউ মার্কেট অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরে আ. ক. ম. মোজ্জাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারের সাড়ে ৩ বছরসহ মোট সাড়ে ২২ বছর আমরা ক্ষমতায় আছি। এই সময়ে কী কী হয়েছে আমরা এর পাই-টু-পাই হিসাব দেবো। কোন জেলায়, কোন উপজেলায়, ইউনিয়নে, ওয়ার্ডে কী কী করেছি সবকিছুর হিসাব দেবো। অন্যরা ২৯ বছর ক্ষমতায় থেকে কী করেছে ওদেরকে তার হিসাব দিতে হবে। যে কেউ হিসাব করে দেখলে বুঝতে পারবে শেখ হাসিনার সময় সে কী পেয়েছে, আর আগে কী পেয়েছে।
বিএনপির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, যারা এতিমের টাকার লোভ সামলাতে পারে না, তারা কীভাবে ১৮ কোটি মানুষের সম্পদের লোভ সামলাবে। তাদের কাছে ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, ভুল ত্রুটি সবারই হয় তাই বলে ২টি আর ৫০টি এক নয়। কারা ভালো দেশ চালিয়েছে আর কারা খারাপ চালিয়েছে সেটা সবাইকে বিচার করে দেখতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধারা এক সময় মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দিতে পারতো না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কোথাও কোনো অফিস-আদালতে বলা যেত না—আমি মুক্তিযোদ্ধা। আর এখন বুক ফুলিয়ে বলা যায়—আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। শেখ হাসিনা এটা করেছেন। শেখ হাসিনা থাকতে মুক্তিযোদ্ধারা কষ্টে থাকবে না।
অনুষ্ঠানে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল জব্বার বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মনসুর আলী, বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী বাগমারায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করেন। এরও আগে দুপুর বারো’টায় মন্ত্রী বাগমারায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন। ওই সভায় গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিকে মূল স্তম্ভ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,দলের তৃণমূল পর্যায়ের কমিটিগুলোকে মূল কাজটা করতে হয়। তাদেরকেই সবসময় মানুষের কাছে যেতে হয়। জনগণের কাছে ভোট চাইতে হয়। এজন্য তিনি গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিকে আরও সুন্দরভাবে গঠন করার জন্য নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন।








