বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ থেকে হাটের দরপত্র চুরির ঘটনায় মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
১৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-১ শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সে জবাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নুরুজ্জামান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।
শুক্রবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদা খানম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে এ সংক্রান্ত চিঠি হাতে পেয়েছি।’
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জামাদারপুকুর হাটের দরপত্র চুরি করে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসককে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চেয়ারম্যান নুরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ২২টি হাটবাজার ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করেন ইউএনও সাঈদা খানম। শেষ দিন ২ মার্চ বিকাল ৩টার দিকে দরপত্র খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়। যাচাই-বাছাইকালে টেবিল থেকে জামাদারপুকুর হাটের দরপত্র চুরি করেন চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান। দরপত্রটি তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জিয়াউল হক জুয়েলের হাতে দিলে তিনি নিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ অবস্থায় ইউএনও সাঈদা খানম দরপত্রটি জমা দিতে চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান। পরে চেয়ারম্যানের সহযোগীরা কৌশলে কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুল হাসান সুরুজের নামে একটি দরপত্র জমা দেন। তবে ওই দিনই চেয়ারম্যান সুরুজ জানান, তিনি কোনও দরপত্র জমা দেননি। এ ব্যাপারে পরদিন রাতে ইউএনও অফিসের সহকারী মুজাহিদুল ইসলাম শাজাহানপুর থানায় নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান আত্মগোপন চলে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই সময় চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বলেন, ‘দরপত্র আহ্বানের দিন পাশে থেকে দলের এক নেতা আমাকে একটি দরপত্র দেখিয়ে সেটি দিতে বলেন। আমি কিছু না বুঝে তার হাতে দিয়ে দিই। এরপর কী হয়েছে, তা আমি জানি না।’
বরখাস্তের বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকালে নুরুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।









