এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে বগুড়ার ধুনটের জোড়খালি হাফেজখানা এলাকা থেকে এ চক্রের মূলহোতাসহ বিভিন্ন কলেজের চার শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও চারটি মোবাইল ফোন জব্ধ করা হয়েছে।
তারা ফেসবুক গ্রুপে এসব প্রশ্নপত্র প্রচার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতো। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য দিয়েছেন।
গ্রেফতার চার প্রতারক হলেন- বগুড়ার ধুনট উপজেলার জোড়খালি গ্রামের যুবাইর আহমেদের ছেলে ও এই চক্রের মূলহোতা মো. সালমান (২০), তার সহযোগী একই গ্রামের রইমেন সরকারের ছেলে রাইসুল ইসলাম (২০), কাওছার আলীর ছেলে আহসান হাবীব (২০) ও রুহুল আমিনের ছেলে আবদুল মোমিন (২০)।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘জেএসসি/এসএসসি অল কোয়েশ্চেনস আউট’ নামে ফেসবুক পেজ খুলে সেখানে বিগত বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নের কাটা অংশের ছবি পোস্ট করা হতো। এসব পোস্টের মাধ্যমে গ্রেফতার যুবকরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের নাটক সাজাতেন। এ জন্য চক্রটি বিভিন্ন সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগ্রহ করে ল্যাপটপে সুপার এডিট করে প্রতারণা করতো। যারা প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র নিতে ইচ্ছুক তাদের ওই পেজে ম্যাসেজ দিতে বলা হতো। পোস্ট দেখে আগ্রহীরা যোগাযোগ করলেই তাদের হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা হতো। দুটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর বিনিময়ে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রি করতেন অভিযুক্ত আসামিরা। তারা এভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করা আসছিলেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারের পর প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২২(২)/২৩(২) ধারা ও পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৪০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে। তাদের কাছে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না তা নিশ্চিত হতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সোমবার বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।








