রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমনকে যে নির্বাচন কর্মকর্তার বাসায় পাওয়া গেছে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ইসি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হোসেন।
সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতে আবুল হোসেনের বাসায় ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে অবস্থান করতে দেখে তাকে বহিষ্কারের দাবি করেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেদিন রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সেই বাসার সামনে বিক্ষোভ করেন তারা।
ছাত্রলীগের রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি রাশিক দত্ত দাবি করেন, মীর ইশতিয়াক আহমেদ ওই বাসায় ঢুকেছিলেন তার মামা কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল হামিদ সরকারকে জেতানোর কৌশলের জন্য। তার সঙ্গে আরও দুইজন ছিলেন। তাদের একজনের হাতে টাকার ব্যাগ ছিল। ছাত্রলীগের নেতারা ভেতরে ঢোকার সময় তিনি টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে আবুল হোসেন বলেন, সোমবার (১৯ জুন) নির্বাচন কমিশন থেকে তার কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল হোসেন দাবি করেন, মীর ইশতিয়াক একাই বাসায় এসেছিলেন। তার সঙ্গে আর কাউকে দেখিনি। এ সময় বাইরের দরজা খোলা ছিল। ৪/৫ জন লোক যখন ঢুকে পড়ে তখন ওই আওয়ামী লীগ নেতা বারান্দায় চলে যান।
মীর ইশতিয়াকের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল এ বিষয়ে এই নির্বাচন কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি জানতে চেয়েছিলেন নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না। আমি জানিয়ে দিয়েছি নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। এ ছাড়া তার সঙ্গে আরও কোনও কথা হয়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, রাজশাহীতে নির্বাচন কর্মকর্তার বাসা থেকে আটক আওয়ামী লীগ নেতা মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমনকে সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তার বাবা রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মীর ইকবালের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। রবিবার রাত ৯টার দিকে তিনি সিটি নির্বাচনের ৯, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল হোসেনের বাসায় এসেছিলেন। এ সময় বাইরে থেকে মহানগর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করেন।
তাকে বহিষ্কারের দাবিতে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নগরের সাগরপাড়া মহল্লার ওই বাড়ির সামনে রাতে কয়েকশ মানুষ জড়ো হন। দিবাগত রাত ১২টার দিকে পুলিশ ওই বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে বোয়ালিয়া থানায় নিয়ে যান। রাতভর তিনি থানাতেই ছিলেন।









