বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বকুলের প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক হোটেল শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতাও।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) ঈদের রাতে কাহালু উপজেলার যোগারপাড়ায় বগুড়া-নওগাঁ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আইনি কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে থানায় লাখ টাকায় মীমাংসা করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় সাবেক এ মেয়র মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তবে গত কয়েকদিন মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত তালোড়া পৌরসভার নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বকুল পরাজিত হন। এর আগে ওই পৌরসভার মেয়র ছিলেন তিনি। নিহত সাইফুল ইসলাম কাহালু উপজেলার ভোলতা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়ার একটি হোটেলে শ্রমিকের কাজ করতেন।
বকুল ঈদের দিন রাতে প্রাইভেটকার চালিয়ে বগুড়া শহর থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। রাত ১০টার দিকে কারটি কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের যোগারপাড়ায় আজাদ পেপার মিলের কাছে বগুড়া-নওগাঁ সড়কে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বাইসাইকেল চালক সাইফুল ইসলামকে ধাক্কা দিলে প্রাইভেটকারটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। সাইকেলচালকও ঘটনাস্থলে মারা যান। কাহালু থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
কাহালুর বীরকেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন জানান, রাতেই থানায় তিনি, নিহতের স্বজন, ওসি মাহমুদ হাসান, এসআই মহিউদ্দিনের উপস্থিতি দুর্ঘটনার মীমাংসা হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহতের স্ত্রীকে সাবেক মেয়র বকুলের পক্ষ থেকে নগদ এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া কুলখানির আগে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কাহালু থানার এসআই মহিউদ্দিন তার উপস্থিতিতে আপস মীমাংসার কথা করেছেন। ওসি মাহমুদ হাসান জানান, তালোড়া পৌরসভার মেয়র বকুলের গাড়ির ধাক্কায় সাইফুল ইসলাম নামে এক হোটেল শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করবে না মর্মে লিখিত দেন। এরপর ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মীমাংসার সময় কোনও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগত নন।








