বগুড়ার গাবতলীতে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের ৪০০ মানুষ বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দিনভর দুর্গাহাটা ইউনিয়নের কাঁকরাগাতী থেকে বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের দশ মাইল কালীগাছ পর্যন্ত এ রাস্তা নির্মাণে অংশ নেন।
এ ছাড়া তারা নিজেদের অর্থায়নে এ সড়কের মাঝে ইছামতি নদীতে ১০০ ফুট স্টিলের সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে তিন উপজেলার হাজারো মানুষের চলাচলের পথ সুগম হবে।
জানা গেছে, বগুড়ার গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ তরণীহাট ও দুর্গাহাটায় যাতায়াতের জন্য নৌকা ছাড়া কোনও বাহন নেই। নৌকায় ইছামতি নদী পার হয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। তবে অন্য পথে যাতায়াত করতে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। কৃষক দুর্গাহাটা থেকে কোনও কৃষিপণ্য তরণীহাটে নিলে অন্তত ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন। তাই যাতায়াত, বাজারে কৃষি পণ্য পরিবহন ও জমিতে হাল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিতে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী গঠন ‘মানবতার দেওয়াল ফাউন্ডেশন’ এ উদ্যোগ নেয়। ৪০০ মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে করা রাস্তাটি দুই কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রায় আট ফুট চওড়া। জমির মালিকরা কোনও শর্ত ছাড়াই তাদের ফসলি জমিতে রাস্তা নির্মাণ করতে সহায়তা করেন।
রাস্তা নির্মাণে জায়গা দেওয়া ইসাহাক আলী, আব্দুল বাছেদ, খাদেমুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রয়োজনে এই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাজ শেষে সবাই টাকা দিয়ে বাজার করে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়া-দাওয়া করেন।
মানবতার দেওয়াল ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান জিসনু বলেন, স্বেচ্ছায় আমরা দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা তৈরি করেছি। এতে তিন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ ও এ এলাকার কৃষক সহজে মাঠে চাষাবাদ করতে, গরু, ছাগল নিয়ে চলাচল করতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা খুব সহজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে।
তিনি বলেন, এই রাস্তার মাঝে নয়াপাড়ার পূর্বপাশে ও সাকিদারপাড়ার দক্ষিণ পাশে একটি বাঁশের সাঁকো আছে। এতে মানুষ যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু পাশাপাশি দুটি ভ্যান চলাচলের উপযোগী ওই সাঁকো দিয়ে পণ্য পরিবহন সম্ভব নয়। তাই সেখানে ১০০ ফুট সেতু নির্মাণ করতে হবে। তাতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এলাকাবাসীর প্রতিশ্রুতি অনুসারে টাকা পাওয়া যাবে। এ টাকা দিয়ে দ্রুত স্টিলের সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।









