বগুড়ায় বিএনপির পদযাত্রা ও বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট ও টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে ৩৩ জনকে সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে অবজারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পর বিকালে হাসপাতাল ছেড়েছেন ছাত্রীরা। এ অবস্থায় বুধবার (১৯ জুলাই) ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে। কোনও ক্লাস নেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে গ্রীষ্মকালীন ছুটি, হিজরি নববর্ষ ও পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ২০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘অসুস্থ ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একদিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আজ কোনও ক্লাস নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন ছুটি, হিজরি নববর্ষ ও পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ২০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করলে বৃহস্পতিবার থেকে যথারীতি ক্লাস চলবে।’
পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদারের নেতৃত্বে শহরের বনানী থেকে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পদযাত্রাটি ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে পৌঁছালে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রশিদের নেতৃত্বে ব্যারিকেড দিয়ে জলেশ্বরীতলা কালীমন্দির হয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে যেতে বলা হয় নেতাকর্মীদের। কিন্তু নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সাতমাথার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। এ অবস্থায় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ২০টি রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। এতে বিএনপির ২০০ নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতারা। সেইসঙ্গে পুলিশের তিন নারী সদস্যসহ ১০ জন আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ গুলির বিকট শব্দ। শিক্ষার্থীরা কৌতূহলবশত জানালা দিয়ে বাইরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করলে পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেল এসে জানালা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। এতে ছাত্রীদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েন অর্ধশতাধিক ছাত্রী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট ও আতঙ্কে অর্ধশতাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ৩৩ জনকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বাকিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর বিকাল ৫টার দিকে ছাত্রীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়। তাদের আতঙ্ক কাটাতে আজ ক্লাস নেওয়া হয়নি।’
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘ওই ঘটনার প্রতিবাদে নয়; ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে বুধবার ছুটি দেওয়া হয়েছে। কারণ মঙ্গলবারের ঘটনায় ছাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এজন্য মঙ্গলবার বিকালে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নোটিশে গ্রীষ্মকালীন ছুটি, হিজরি নববর্ষ ও পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ২০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছি আমরা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করলে বৃহস্পতিবার থেকে যথারীতি ক্লাস চলবে।’
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. শফিক আমিন কাজল বলেন, টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় অসুস্থ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জনকে অবজারভেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়। কিছুটা সুস্থতা বোধ করলে বিকালে সবাইকে রিলিজ করে দেওয়া হয়। কারও বড় ধরনের কোনও সমস্যা হয়নি। সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।’
বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ২০টি রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রী অসুস্থ হয়েছেন বলে শুনেছি। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কারও কোনও সমস্যা হয়নি। হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ২১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়েছে।’









