প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির অভিযোগে করা মামলায় রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের আরও একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শরিফুল ইসলাম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে আদালতে হাজির করে রাজপাড়া থানায় দায়ের করা নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
আবু সাঈদ চাঁদের আইনজীবী শামসাদ বেগম মিতালী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। এ নিয়ে ১০ম বারের মতো আবু সাঈদ চাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।’
শামসাদ বেগম মিতালী বলেন, ‘একই মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তাকেও আদালতে তোলা হয়েছে। সেখান থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।’
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির অভিযোগে নেত্রকোনার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা আরও ছয় মামলায় আগামী রবিবার চাঁদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে বলে জানান এই আইনজীবী।
গত ১৯ মে বিকালে পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘আর ২৭ দফা, ১০ দফার মধ্যে আমরা নাই। এক দফা, শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠাতে হবে। শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য যা যা করার দরকার, আমরা করবো।’ এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হতে থাকে। গত ২৫ মে রাজশাহী মহানগরের ভেড়িপাড়া মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি প্রাইভেটকার থেকে চাঁদকে গ্রেফতার করে রাজশাহী জেলা ও মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।
তার এই বক্তব্যের জেরে রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা করেছেন পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে ৮৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ইতোপূর্বে এসব মামলায় চাঁদকে ৯ বার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, ঢাকায় দলের সমাবেশের দুই দিন আগে গত ২৬ জুলাই রাতে ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে শফিকুল হক মিলনসহ চার জন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মিলন গত ৬ আগস্ট জামিনে মুক্ত হলেও আরও দুটি মামলায় জেলগেটে গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ আদালতে এনে রাজপাড়া থানায় দায়ের করা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।








