তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এখন বাংলাদেশে ছেঁড়া কাপড় পরা, খালি পায়ের কাউকে দেখা গেলে মানুষ ভাবে তার মানসিক কোনও সমস্যা আছে। আজকে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আছে, রাস্তাঘাট হয়েছে, গ্রামেগঞ্জে কুঁড়ে ঘর নেই, সব জায়গায় কমপক্ষে টিনের চালা হয়েছে। এখন বাড়ির ছোটরা চেরাগ, ল্যাম্প, হারিকেন চেনে না- এগুলো এখন ড্রয়িং রুমে সাজিয়ে রাখার মতো জিনিসে পরিণত হয়েছে। এত সব উন্নয়ন শেখ হাসিনার কারণে হয়েছে।’
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি মনোমোহিনী হাইস্কুল মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্টের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। স্বাধীনতার ৫২ বছর পার হয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই রেকর্ড আজ পর্যন্ত অর্জন করতে পারিনি। বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে সাড়ে ৯ শতাংশ বা ডাবল ডিজিট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতো এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের ১০ থেকে ১৫ বছরের মাথায় হতো একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ।’
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন, একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, তখন বাংলাদেশ ছিল একটি বিধ্বস্ত জনপদ। এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। আরও এক কোটি মানুষ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ভারতে আশ্রিত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছিল তাদের পুনর্বাসন করেছিলেন।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানিরা যখন বুঝতে পেরেছিল তাদের পরাজয় নিশ্চিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট খুলে তারা টাকায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রা জ্বালিয়ে বাকিগুলো লুট করে নিয়ে যায়। দেশের যোগাযোগব্যবস্থা বিধ্বস্ত, ব্যাংকে কোনও টাকা নেই- এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দেশকে পুনর্গঠিত করে যখন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাকে হত্যা করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমরা মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের কথা শুনি, তারা আমাদের চেয়ে খারাপ ছিল। এখন তারা আমাদের চেয়ে ভালো। এর কারণ হলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে অর্থনীতির চাকাকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাকে হত্যা করা হয়েছিল।’
বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন দেখে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের মাথা ঠিক নেই। তাদের মুখে এখন হতাশার সুর। বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়ে কাজ হয়নি, কয়েকটি পত্রিকার খবর দেখে তাদের চেহারা মলিন হয়ে গেছে। বিদেশিরা তাদের তত্ত্বাবধায়ক ও নির্দলীয় সরকারের দাবি মানেনি। বিদেশিরা দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ, সংরক্ষিত আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য বেগম আক্তার জাহান, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণিপেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।








