X
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মারধর ও অপহরণ, পরিচয় মিলেছে ১০ জনের

রাজশাহী প্রতিনিধি
১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৯:৩১আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৯:৩১

নাটোর জেলা নির্বাচন অফিসের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে মারধর ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকগণ তাদের শনাক্ত করেন।

শনাক্ত হওয়া এসব ব্যক্তিরা বেশির ভাগ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুল হাবিবের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও গাড়িচালকও রয়েছেন। তবে পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িতদের নাম পরিচয় প্রকাশ না করলেও ইতোমধ্যে শনাক্ত হওয়া দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলেন সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে আব্দুস সামাদের ছেলে সুমন আহমেদ (৩০) ও শেরকোল ইউনিয়নের হারোবাড়িয়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হক বাবু (৩২)।

এ বিষয়ে নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে আছে। ফুটেজ দেখে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। নিশ্চিত হলেই জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ তবে তদন্তের স্বার্থে অন্য অভিযুক্তদের ব্যাপারে কোনও তথ্য জানাতে চাননি তিনি।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টার কিছুক্ষণ পর নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতর থেকে দুর্বৃত্তরা দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করতে করতে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। বিকাল ৫টার কিছু পরে দুর্বৃত্তরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় তার গ্রামের বাড়ির (সিংড়ার কলম ইউনিয়নের পারসাঐল গ্রাম) সামনে ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সিংড়ার একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় দুজন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভিডিও ফুটেজে সিংড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহন আলীকে (পাঞ্জাবি পরা) ঘটনার সময় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের নিচতলায় সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উপজেলার শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মজনু তালুকদারকে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে কলাপাতা রঙের গেঞ্জি পরা দেখা যায় কলম ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনকে (কাজল)। আকাশি রঙের গেঞ্জি পরে উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপনের ভাগনে সরলকে ঘটনার সময় দেখা যায়। আর হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরেছিলেন স্থানীয় যুবলীগ কর্মী পিয়াস।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুল হাবিবের ব্যক্তিগত সহকারী এবং তার বালি ও মাটি ব্যবসার ম্যানেজার জাহিদ হাসানকে সাদা গেঞ্জি ও জিনস প্যান্ট পরে অপহরণে অংশ নিতে দেখা যায়। এ ছাড়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সেতু সরকার, সাধারণ সম্পাদক মজনু তালুকদার, সিংড়া মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া নাজমুল হক বাবু, শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিমন্ত্রী পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবিবের গাড়িচালক সুজনকে (ইটালি গ্রামের নিতাইয়ের ছেলে) কালো গেঞ্জি পরে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত কালো মাইক্রোবাসের চালকের আসনে বসতে দেখা যায়। পরে তিনিই মাইক্রোবাসটি চালিয়ে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়ে সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের আগে সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকে তার ভাই এমদাদুল হক ও সহযোগী আলাউদ্দিন মুন্সিকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। তখন দেলোয়ার হোসেন লুৎফুল হাবিবের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন। লুৎফুল হাবিব উপজেলার শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। দেলোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনিই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন।

আহত দেলোয়ার হোসেনের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেল। গত রবিবার পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। কিন্তু সোমবার সকালে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য দেলোয়ার হোসেন ব্যাংকে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার জন্য বের হন। এ সময় জরুরি প্রয়োজনে নাটোর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে গেলে সেখান থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে প্রতিমন্ত্রীর শ্যালক রুবেল তার হুকুমে সিংড়া উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হাসান মোহনসহ ১৫-২০ জন দুর্বৃত্তরা আলাউদ্দিন মুন্সিকে অপহরণ করে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লুৎফুল হাবিব।

এদিকে, জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে এমন অভিযোগ করা হলে পুলিশ দুর্বৃত্তদের অবস্থান শনাক্তের কাজ শুরু করেন। অপরদিকে এ ঘটনার পরপরই পুলিশ আহত প্রার্থীর মেজ ভাই মজিবুর রহমানকে সদর থানায় ডেকে নেয়। পরে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহতের ভাই মজিবুর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা করেন। এটি সদর থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা এবং ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ মোতাবেক বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার এ রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।’

/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
বেনজীরের বাঁচার উপায় কী
রিলাক্স পরিবহনের সেই চালক কারাগারে
টেকনাফে ৩ জনকে অপহরণ, রক্তাক্ত অবস্থায় পালিয়ে এলেন একজন
সর্বশেষ খবর
উপকূলে ‘মে আতঙ্ক’
উপকূলে ‘মে আতঙ্ক’
টিভিতে আজকের খেলা (২৬ মে, ২০২৪)
টিভিতে আজকের খেলা (২৬ মে, ২০২৪)
ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’: ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’: ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ড্রয়ে লিগ শেষ রিয়ালের, ক্রুসের অশ্রুসিক্ত বিদায়
ড্রয়ে লিগ শেষ রিয়ালের, ক্রুসের অশ্রুসিক্ত বিদায়
সর্বাধিক পঠিত
ব্যক্তি পর্যায়ের কর হার বাড়বে
ব্যক্তি পর্যায়ের কর হার বাড়বে
‘তুফান’র গানে প্রীতম, আছেন পর্দায়ও!
‘তুফান’র গানে প্রীতম, আছেন পর্দায়ও!
এমপি আনার হত্যা: কে এই সিলিস্তা রহমান?
এমপি আনার হত্যা: কে এই সিলিস্তা রহমান?
রঙমিস্ত্রি থেকে যেভাবে এমপি আনার হত্যায় জড়ায় জিহাদ
রঙমিস্ত্রি থেকে যেভাবে এমপি আনার হত্যায় জড়ায় জিহাদ
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হলেন কেএসআরএমের ১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হলেন কেএসআরএমের ১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী