বগুড়া শহরে প্রকাশ্যে দুই যুবককে ধাওয়া করে ধরে গুলি ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ জুন) ঈদের দিন রাতে শহরের নিশিন্দারা চকরপাড়ায় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে গুলির একাধিক খোসা পাওয়া গেছে।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের কারণ বলতে পারেনি। তবে এলাকাবাসীরা বলছেন, দুর্বৃত্তরা পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন- বগুড়া শহরের নিশিন্দারা চকরপাড়ার দুদু শেখের ছেলে নোমান আহমেদ শরীফ (১৯) ও নিশিন্দারা খাঁপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে রুমন ইসলাম (১৬)। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন নিশিন্দারা চকরপাড়ার মো. বাদলের ছেলে হোসাইন বুলেট (১৬)।
নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসীরা জানান, আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র হাতে ২০ থেকে ২৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত সোমবার রাত ১২টার দিকে নিশিন্দারা চকরপাড়ায় ইউক্যালিপটাস বাগানের কাঁটাতারের বেড়ার পেছনে গলিতে ঢোকে। তারা শরীফ, রুমন ও বুলেটকে ধাওয়া করে। বেড়ার কাঁটাতারের সঙ্গে শার্ট আটকে যাওয়ায় শরীফ পালাতে ব্যর্থ হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ৮/১০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা শরীফ ও রুমনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। বুলেট পালিয়ে যাওয়ায় অল্পের জন্য বেঁচে যান।
গুলিবিদ্ধ বুলেটকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এদিকে ঘটনার পর থেকে স্বজনরা আহাজারি করছেন। ঘটনাস্থলে ২০ ফুট দূরত্বে নিহতদের জমাট বাঁধা রক্ত পড়ে আছে। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির দুটি খোসা দেখা গেছে।
বগুড়া শহর যুবলীগের ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার নেতা আবদুর রহিম জানান, সোমবার রাত ১২টার আগে নিশিন্দারা চকরপাড়ায় তার ফুফাতো ভাই ব্যবসায়ী শরীফ, বন্ধু ব্যবসায়ী রুমন ও গ্রিল মিস্ত্রি বুলেট আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে শরীফ ও রুমনকে হত্যা করে। বাঁ পায়ে গুলিবিদ্ধ বুলেট পালিয়ে যাওয়ায় সে প্রাণে বেঁচে গেছে।
নিশিন্দারা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাহবুব জানান, দুই মারা গেছে এবং একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আহত অপরজনের পায়ে এক্স-রে করলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তিনি গুলিবিদ্ধ কি না?








