বগুড়ায় বিএনপির দুই কার্যালয়ে আগুন

বগুড়া প্রতিনিধি
১৭ জুলাই ২০২৪, ১৩:৪৬আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৪, ১৩:৫৮

বগুড়া শহরে বিএনপির দুটি কার্যালয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে শহরে টেম্পল রোডে শহরের ও নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সাধারণ জনগণ বলছেন, কোটা আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের সাতমাথায় তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে। এর জেরে বিএনপি অফিসে হামলা হয়।

বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা দাবি করেন, কোটা  সংস্কার আন্দোলনকারীদের কাছে পরাজিত হয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাদের দুটি কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বলেন, বিএনপি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে কিছু জানা নেই।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজ নতুন ভবনের সামনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আধা ঘণ্টা সাতমাথা-তিনমাথা সড়ক অবরোধ করেন। তারা ক্যাম্পাসে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা ২/৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের চার শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতরা দাবি করেছেন, ছাত্রলীগ মাহফুজ গ্রুপ এ হামলা করেছে।

একই দাবিতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীর সোমবার মধ্য রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। মঙ্গলবার সকালে তারা প্রতিষ্ঠানের সামনে ছিলিমপুর এলাকায় আধা ঘণ্টা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান থেকে কোটাবিরোধী স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

তারা বনানী এলাকার দিকে যেতে চাইলে সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজ থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজে আত্মগোপন করেন। শিক্ষার্থীরা বনানী এলাকায় শাপলা চত্বরে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তখন সেখানে আল মুমিন নামে এক ফটো সাংবাদিকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরের সাতমাথা এলাকায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কোটা বিরোধী মিছিলে বাধা দেয়। এতে মিছিল পণ্ড হয়ে যায়।

এদিকে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিকাল ৩টার দিকে শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথায় সমবেত হতে শুরু করেন। সোয়া ৩টার দিকে জিলা স্কুল থেকে সাবেক ও বর্তমান ছাত্ররা মিছিল নিয়ে বের হতে শুরু করেন। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে সেখানে ৩/৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এতে জিলা স্কুলের কয়েকজন ছাত্র রক্তাক্ত জখম হন। এ অবস্থায় উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা ধাওয়া করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান।

এরপর শিক্ষার্থীরা সাতমাথায় তাণ্ডব শুরু করেন। তারা তিন ঘণ্টা ধরে জেলা আওয়ামী লীগ, জাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন, টাউন ক্লাব, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খানের দুটি ব্যক্তিগত কার্যালয়, পাশেই পুলিশ বক্স, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও জিনিসপত্র বাইরে এনে আগুন দেন। তারা অফিসগুলোতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দেয়।

এ ছাড়া ভারতে বাবরি মসজিদ স্টাইলে মুজিব মঞ্চ ভাঙচুর করেন। পুলিশ বক্সে থাকা ৪/৫টি মোটরসাইকেল পুড়ে দেন। রোড ডিভাইডারগুলো ভেঙে ফেলা হয়। আওয়ামী লীগের দুটি কার্যালয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দাউদাউ করে আগুন জ্বললেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছদ্মবেশে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারাই বেশি তাণ্ডব চালিয়েছেন। হামলায় ৪/৫ জন সাংবাদিক রক্তাক্ত জখম হন।

অন্যদিকে তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালালেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এ সুযোগে মুজিব মঞ্চ, অফিসগুলো ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। অথচ সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে পুলিশ অ্যাকশন শুরু করে। পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে ৫/৬ মিনিটের মধ্যে আন্দোলনকারীরা সাতমাথা ত্যাগ করেন।

সদর থানায় সেকেন্ড অফিসার এসআই রহিম উদ্দিন জানান, অ্যাকশনে যাওয়ার বিষয়ে ওপরের কোনও নির্দেশ ছিল না। কোটা বিরোধীরা সাতমাথা ত্যাগ করলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরপরই বেশ কয়েকজন টেম্পল রোডে শহর বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর তারা নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালান। আসবাবপত্র বাইরে এনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা অভিযোগ করেন, পুলিশের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের দুটি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। তারা ছাত্রদল ও শ্রমিক দল কার্যালয়েও আগুন দেয়। তিনি এ হামলাকে কাপুরোষিত আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে। এ ছাড়া অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

/এফআর/
সম্পর্কিত
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
কেন্দ্র ও তৃণমূলের মাঝে দূরত্ব বাড়ছে বিএনপিতে?
সর্বশেষ খবর
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি