কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল ও আশেক উল্লাহ রফিকসহ ২৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কক্সবাজার মডেল থানা ও কুতুবদিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দুটি করা হয়েছে। রবিবার রাতে সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। শহরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিএনপির জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ারসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়।
মামলায় সাইমুম সরওয়ার ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুল হক মার্শাল, পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়, সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান, পৌর যুবলীগের সভাপতি ডালিম বড়ুয়া, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সালাউদ্দিন সেতু, হেলাল উদ্দীন কবির, সাহাব উদ্দিন সিকদার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজিবুল ইসলাম, মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকসুদসহ ৫১ জনের নাম উল্লেখ এবং ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় অভিযুক্তরা কিরিচ দিয়ে কার্যালয়ের বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুজ্জামান বলেন, শুক্রবার আরও একটি মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায়ও সাইমুম সরওয়ার কমলসহ ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
অপরদিকে, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাহের, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবরসহ ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার কুতুবদিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজার উত্তর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল। কুতুবদিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাঈদীন নাঁহী মামলাটি আমলে নিয়ে কুতুবদিয়া থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ৬১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলার বাদী সংসদ সদস্য প্রার্থী নোঙর প্রতীকের শরিফ বাদশার প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক ছিলেন। নৌকার প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিকের নির্দেশে গত ৪ জানুয়ারি নোঙর প্রতীকের প্রার্থীর ধুরুং স্টেডিয়ামে নির্বাচনের জনসভায় হামলা করে প্যান্ডেল, চেয়ার, মাইক ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুতুবদিয়া উপজেলা কার্যালয়ের হামলা করে ভাঙচুর চালানো হয়। ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা ৭টায় গুলি বর্ষণ করে মামলার আসামিরা বাদীর কৈয়ারবিল সমিতির রোডের অফিসে হামলা করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ টাকা নিয়ে যান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফিরোজ আহমদ বলেন, ‘মামলার আসামিদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাহের, বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম, কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবর।









