‘মুক্তিযুদ্ধ-বগুড়া’ নামে ফেসবুক পেজের এডমিন ও তার কয়েকজন বন্ধু এবং সহকর্মীর সহযোগীতায় শনিবার সারিয়াকান্দি উপজেলার রৌহাদহ গ্রামে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাছুদুল আলম খান চান্দুর কবর সংস্কার ও নামফলক স্থাপন করা হয়েছে। পরে কবর জিয়ারত করা হয়।
‘মুক্তিযুদ্ধ-বগুড়া’র এডমিন বেসরকারি পলিটেকনিক বিটের ব্যবস্থাপক (গার্মেন্টস বিভাগ) আকবর আহমদ জানান, তারা কয়েকজন বন্ধু ও সহকর্মীকে নিয়ে বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে থাকা মুক্তিযোদ্ধা বিশেষ করে শহীদদের কবর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা এক মাসে আগে বগুড়ার সারিয়াকান্দির কামালপুরের রৌহাদহ গ্রামে গিয়ে শহীদ চান্দুর কবর খুঁজে বের করেন। কবরটি অপরিচ্ছন্ন ও তাতে নামফলক না থাকায় ফেসবুকে শহীদদের কবর সংস্কার ও নামফলক স্থাপনে সহযোগীতার আহ্বান জানান। কানাডা প্রবাসী মাহফুজুর রহমান দুলু এর ব্যয়ভার বহনে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
চান্দু শহীদ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত গ্রুপ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হাসান জাহেদ, মুক্তিযোদ্ধা আলী ফেরদৌস নান্নু, মুক্তিযাদ্ধা মতলুবুর রাহমান দুলু, ৭নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস পারভিন ডলি, মুক্তিযোদ্ধা মহসিন আলী প্রমুখ গ্রামে গিয়ে চাঁন্দুর কবর সংস্কার ও নামফলক স্থাপন করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধ-বগুড়া’ টিমকে সহায়তা করেন, শহীদ চাঁন্দুর ছোট বোন শামসুন্নাহার খান ও ভগ্নিপতি আব্দুল ওয়াদুদ খান। পরে কবর জিয়ারত ও মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।
প্রসঙ্গত, বগুড়ার সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ গ্রামের মাছুদুল আলম খান চান্দু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রশিক্ষণে ভারতে যান। তিনি ছিলেন, ৭নং সেক্টরের ৯২ প্লাটুনের কমান্ডার। ১৯৭১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সারিয়াকান্দির দড়িপাড়া গ্রামে পাকিস্তানি হানাদের হাতে বন্দি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করতে চান্দুর নেতৃত্বে মোতাকবির, আলী ফেরদৌস, লুৎফর রহমান আলাল, মঞ্জুরুল হাসান জাহেদ, বাকি প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধা সেখানে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সেখানে ঘণ্টাব্যাপী খান সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে গুলি লেগে চান্দু শহীদ হন। পরে তার লাশ উদ্ধার করে গোপনে রৌহাদহ গ্রামে দাফন করা হয়। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা চান্দু ক্রীড়াবিদও ছিলেন। তাই তাকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৭৩ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থা বগুড়া স্টেডিয়ামকে ‘শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম’ নামকরণ করেন।
/এআর/






