সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ১৭৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেস্বর) বিকালে আবু সাঈদ নামে একজন বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহার আদালতে এ মামলা করেন।
আবু সাঈদ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমের ঢাকার বাসার কেয়ারটেকার সাখাওয়াত হোসেনের শ্যালক।
আদালত শুনানি শেষে মামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে শিবগঞ্জ থানার ওসিকে
নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইনজীবী জানান, সালমান এফ রহমান ছাড়াও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও বিডিআর বিদ্রোহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল কাহার আকন্দ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, জাবেদ পাটোয়ারী, শহিদুল হক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম ও ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাত এ রহমান, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার শাহ আলম ও তার স্ত্রী সাবেক বিএনপি নেত্রী বিউটি বেগম, তাদের ছেলে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ বিপুল প্রমুখ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত সাখাওয়াত হোসেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমের রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার বিজয় সরণি টাওয়ারের বাসার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।
২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম ও ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশ ওই বাসায় প্রবেশ করে মীর শাহে আলমকে না পেয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সাখাওয়াত হোসেনকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।
সাখাওয়াত হোসেনকে বিভিন্ন জায়গায় আটকে রেখে নির্যাতনের পর শিবগঞ্জ উপজেলার বিউটি পার্কের একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলম অগ্নিসন্ত্রাস ও সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে আসামিরা। দফায় দফায় নির্যাতনে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি শিবগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানতলা মাজারের কাছে রাস্তায় সাখাওয়াতকে ফেলে রেখে যান আসামিরা। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। পরে থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়।









