বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে কনসার্ট দেখতে এসে ছুরিকাঘাতে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মেহেদী হাসান (২৪) নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের মা সুকী বেগম শ্যামলা রবিবার দুপুরে সদর থানায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে ১০ জনের বিরুদ্ধে এ হত্যা মামলা করেন। এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে কলেজটির কামারগাড়ি নতুন ক্যাম্পাসের ১০ তলা ভবনের পেছনে হত্যাকাণ্ড ঘটে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, ‘মামলা হয়েছে। সেইসঙ্গে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।’
নিহত মেহেদী হাসান বগুড়া শহরের মালগ্রাম চকরপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। এ ঘটনায় কনসার্টের নামে কলেজে ‘অপসংস্কৃতির’ প্রতিবাদে সচেতন শিক্ষার্থী সমাজের ব্যানারে রবিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার কলেজের দর্শন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় ছিল ব্যান্ড দল ‘অ্যাশেজ’-এর কনসার্ট। সেই কনসার্ট দেখতে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগত কিশোর ও তরুণদের ঢল নামে। কনসার্ট দেখতে আসা মেহেদীর সঙ্গে দুই যুবকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে ক্যাম্পাসের ১০ তলা ভবনের পেছনে নিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। আশপাশের লোকজন মেহেদীকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহিম বলেন, ‘ছুরিকাঘাতে তরুণকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) একেএম মঈন উদ্দিন বলেন, ‘নিহতের মা রবিবার তিন জনের নাম উল্লেখ করে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে পূর্ব বিরোধের জেরে তার ছেলেকে হত্যার কথা উল্লেখ করেছেন। আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে; শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।’
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, কনসার্ট দেখতে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগত কিশোর ও তরুণদের ঢল নামে ক্যাম্পাসে। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ছিল বেশি। কিন্তু নিরাপত্তায় কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ফলে অনেক নারী দর্শক হয়রানির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে মাদক সেবন করেছেন। কনসার্ট চলাকালে এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘কলেজে এত বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন হলেও আমাদের জানানো হয়নি। ফলে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। আমার ধারণা, মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। রবিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি আজিজুল হক কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সোলায়মান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কলেজের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমার বিভাগের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে আসছে। আমাদের অতিথি ছিলেন সর্বমোট ৫০০ জন। কিন্তু কনসার্টে ব্যান্ড দল অ্যাশেজ আসার খবরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আসেন। দর্শক কমাতে আমরা টিকিটের ব্যবস্থার কথা চিন্তা করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের মুখে তা সম্ভব হয়নি। এ অনুষ্ঠানের আগে পুলিশ, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে। কিন্তু দর্শক সমাগম অতিরিক্ত হওয়ায় সবকিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। এক তরুণ কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে খুন হয়েছেন। যদিও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় আমরা ব্যথিত।’








