বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি বাড়িতে সিঁধ কেটে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চুরি করতে আসা সেলিম মিয়া (৩২) নামে এক চোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় অন্য দুই চোর নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভীর রাতে উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের ছাতুয়া মাতালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানান, নিহত সেলিম মিয়া বগুড়ার কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নের পিলকুঞ্জ গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার পর তিন সদস্যের একদল চোর সিঁধ কেটে শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের ছাতুয়া মাতালপাড়া গ্রামের গোপাল চন্দ্রের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। বাড়ির সদস্যরা টের পেয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারা চারদিক থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পরে সেলিম মিয়াকে আটক করেন। অন্য দুই জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসীরা বেধড়ক মারধর করলে ঘটনাস্থলেই সেলিম মিয়া মারা যান। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য চানাচুর ব্যবসায়ী সুমন সাহার স্ত্রী পূর্ণিমা সাহা বলেন, সিঁধ কেটে দুই চোর তাদের ঘরে প্রবেশ করে। এরপর আমাকে ও সন্তানকে চাকু ধরে জিম্মি করা হয়। চোররা ঘরে থাকা নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালংকার এবং পরনে থাকা গয়নাও নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, চোররা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা চিৎকার দেন। এ সময় তার ভাসুর এক চোরকে ধরার চেষ্টা করেন। পরে এলাকাবাসী এসে এক চোরকে আটক করেন।
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান, মাঝিহট্ট ইউনিয়নের ছাতুয়া মাতালপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে সিঁধ কেটে ঢুকে চুরি করতে এসে এক চোর ধরা পড়েন। সেখানে মানুষের পিটুনিতে সেলিম নামে এক চোর মারা গেছেন। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। চুরি ও হত্যার বিষয়ে পৃথক মামলা হবে। এ বিষয়ে থানায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার হত্যা মামলা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে সেটি গ্রহণ করা হবে।









