পহেলা বৈশাখের বাকি মাত্র একদিন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবে বৈশাখী মেলা। আরও তাইতো স্টার, চর্কি, মার্কিন চাঁদ এমন বাহারি নাম আর ডিজাইনের ফুল বানাতে দিন-রাত কাজ করছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার জামগ্রামের ফুলের কারিগররা। মেলাগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজাতেই তাদের এই প্রাণান্ত চেষ্টা। পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও সাবলম্বী হচ্ছেন এই ফুল কারিগররা।
সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের প্রায় ছয় শতাধিক পরিবার এই ফুল তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত। কাপড়, কাগজ আর বাঁশসহ নানা উপকরণ দিয়ে সকাল থেকে রাত অবধি ফুল তৈরির কাজ করেছেন তারা। পরিবারের একজন নয় ফুল তৈরির এ কাজ করছেন পরিবারের সবাই। বিশেষ করে নারীরা সংসারের কাজ-কর্ম সেরে বাড়তি সময়ের ফাঁকে তৈরি করছেন এসব বাহারী ফুল।
খুব বেশি পরিশ্রম না থাকলেও ধৈর্য সহকারে করতে হয় এই কাজগুলো। বাড়ির সবাই মিলে ফুল তৈরির পর পুরুষরা বিক্রির উদ্দেশ্যে চলে যান জেলা ও জেলার বাইরে। এসব ফুল বেচতে তাদের সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ দিন।আয়ও হয় বেশ ভালো।
জামগ্রামের ফুল কারিগর মামুনুর রশিদ মিলন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই ফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এসব ফুল তৈরির উপকরণ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আমদানি করা হয়। তারপর সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে ফুলে রূপান্তরিত করা হয়।
আরও পড়তে পারেন: খোলা জায়গায় রাত পর্যন্ত পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ঘোষণা
ওই গ্রামের আশরাফুল বলেন, এই ফুল তৈরির কাজে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান সহযোগিতা করে থাকেন। পহেলা বৈশাখ আসার এক মাস আগে থেকে শুরু হয় এসব ফুল তৈরির কাজ।
একই গ্রামের কারিগর রেজাউল ইসলাম জানান, তার বাবা এই ফুল তৈরি ও তৈরি করা ফুল বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রির কাজ করতেন। সেই সুবাদে তিনিও এ কাজ করছেন।
আব্দুল হালিম নামে ৬৫ বছর বয়সী একজন ফুল কারিগর জানান, ফুল তৈরির পর সেগুলো পাশের জয়পুরহাট, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসা বৈশাখী মেলাগুলোতে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। যে এলাকায় যাওয়া হয় সেখানে তাবু খাঁটিয়ে নিজেরাই রান্না-বান্না করে খেতে হয়। সব ফুল বিক্রি হয়ে গেলে আবার ফিরে আসা হয়। এতে করে পহেলা বৈশাখ, দুর্গাপুজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মৌসুম ভেদে লাভ হয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
নাজমুল নামে এক ফুল কারিগর জানান, স্ত্রী, দুই সন্তান ও বাবা-মা নিয়ে যৌথভাবে সংসার করছেন। এই ফুল তৈরি থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে অনেক স্বচ্ছলভাবেই কেটে যায় তাদের।
তবে নাজমুল বলেন, আমাদের গ্রামের রাস্তাঘাট পাকাকরণ হয়নি। বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমরা কোনও রকমে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে অনেক খরচ করে একটু আলোর ব্যবস্থা করেছি। বিদ্যুৎ এর অভাবে রাতে ঠিক মতো কাজ করতে পারি না। বিদ্যুৎ পেলে আরও বেশি করে ফুল তৈরি করতে পারবো।
আরও পড়তে পারেন: চেহারায় ইলিশ, আসলে ইলিশ নয়
আত্রাই-রানীনগর আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম বলেন, এই ফুল কারিগররা শুধু তাদের উপার্জনই নয় বাংলার সব সাংস্কৃতিক উৎসবকে বর্ণিল করতেও বিশেষভাবে ভূমিকা রাখছে। এটি একটি ক্ষুদ্র কুটির শিল্প। আর এই শিল্পের তৈরি ফুলগুলি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিক্রি হচ্ছে।
/বিটি/টিএন/








