রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীর ভাঙনে চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় বিদ্যালয়গুলোর মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
এদিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, দিয়ারকাদিরপুরসহ ১৫টি চরের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনে শতাধিক বাড়ি ও কয়েকটি মসজিদও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মায় হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে ভাঙনে একে একে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে যায়। বিদ্যালয়গুলোর মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত নদীগর্ভে চলে গেল স্কুলটি। পদ্মার চরের মধ্যে আজ স্কুল ভালো দেখে গেলাম, কাল এসে দেখতে হবে স্কুল নেই। শেষ পর্যন্ত স্কুল স্থানান্তর করতে করতে বিলীন হয়ে গেল।’
তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলার মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনও পরিস্থিতি নেই। তাই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।’ বিদ্যালয়টিতে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ভাঙনে চরের প্রায় ১০০টি বাড়ি, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
চৌমাদিয়া চরের বাসিন্দা সোলেমান মোল্লা বলেন, পদ্মায় ক্রমাগত পানি বাড়ছে। এতে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ। পাশাপাশি ১৫টি চরের বাসিন্দারা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, নদী ভাঙন ও বিদ্যালয় পরিদর্শন করে আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এক ভবন থেকে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, কী করছিলেন তারা







