সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি চার বিঘা খেলার মাঠ চাষ করে দখলের অভিযোগ ওঠার পর মাঠটি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নওকৈড় পূর্বপাড়া গ্রামের মাঠটি পরিদর্শন করে তিনি সেখানে চাষাবাদ না করার নির্দেশ দেন এবং মাঠটি খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন।
এর আগে মাঠটি চাষ করে দখলের অভিযোগ ওঠে সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হেকমত আলী সরকারসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকালে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত মাঠটি চাষাবাদের জমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেনের ভাষ্য, জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনায় মাটি ভরাট করেছিলেন। তবে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়নি। এরপর থেকে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা মাঠটিতে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতেন।
তবে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন হেকমত আলী সরকার। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের জমি দখল করে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। এখন তারা নিজেদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছেন। জমিটির হালনাগাদ খাজনা-খারিজ আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খাজনা-খারিজ নেই, তবে এ নিয়ে মামলা চলছে।’
সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জমিটি সরকারি সম্পত্তি বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট করেছিলেন। এরপর জমিটি অব্যবহৃত ছিল।’ স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণেরা সেখানে খেলাধুলা করেন বলে তিনি জানেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম এর আগে বলেছিলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার মাঠ পরিদর্শনের সময় তিনি চাষাবাদ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং মাঠটি খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন।