জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সাবেক স্ত্রীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হাসান আলী (৩০) মারা গেছেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) সাবেক স্ত্রী ও তার স্বামী বাড়ি থেকে ডেকে এনে হাসানের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা হাজিপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে সুখী বেগমের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার দেব্রাইল গ্রামের বরফ বিক্রেতা হাসান আলীর। বেশ কিছুদিন থেকে ভাদসা হাজিপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক উজ্জল হোসেনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে সুখী বেগমের। স্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা থাকায় উজ্জলকে ৪০ হাজার টাকা ঋণও তুলে দেন হাসান। দিন পনের আগে সুখী স্বামী হাসানকে তালাক দিয়ে উজ্জলকে গোপনে বিয়ে করেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে হাসানকে ভাদসার তিন মাথার মোড়ে একটি দোতলা বাড়ির ছাদে ডেকে নিয়ে যান সুখী ও উজ্জল। সেখানে তাদের সঙ্গে ছিলেন রেজাউল ও সালাউদ্দিন নামের আরও দুইজন। এসময় হাসানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে সুখীর বর্তমান স্বামী উজ্জল তাকে মারপিট করে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। স্থানীয় লোকজন হাসানকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ৮০ শতাংশই পুড়ে যায়।
হাসানের মা হালিমা খাতুন বলেন, আমার ছেলেকে সাবেক স্ত্রী সুখী ও তার বর্তমান স্বামী উজ্জল প্রলোভন দিয়ে ভাদসা বাজারে ডেকে নিয়ে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।
আরও পড়তে পারেন: একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন গাইবান্ধার আরজিনা
জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় হাসান আলীর মা হালিমা খাতুন বাদী হয়ে সোমবার সুখী বেগম ও তার স্বামী উজ্জলকে আসামি করে মামলা করেছেন। যেহেতু হাসান মারা গেছেন তাই এটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
/বিটি/







