ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার ঘটনায় ডিবি হেফাজতে এমপি আজিজের ছেলে

নাটোর প্রতিনিধি
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৫ আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৫

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (২৮) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে গুরুদাসপুর বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এমপিপুত্র মিন্টুকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে থানা-পুলিশ তাকে আটক করে রাত ১২টার দিকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মিন্টুকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই হাসপাতালেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে অবরুদ্ধ করা হয়।

সেখানে তার বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার এবং নিহত শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান নেতাকর্মীরা। ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাত ১০টার দিকে মিন্টুকে আটক করা হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত তাকে গুরুদাসপুর থানার ওসির কক্ষে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই তাকে নাটোর জেলা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তবে এসব ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে শাকিলের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যান নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সন্তান জড়িত থাকলেও তাকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

এ সময় সংসদ সদস্য ও ওসির উপস্থিতিতে নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অবহেলার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামি ধরতে পুলিশের চরম অবহেলা ছিল। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি। তিনি মামলার এজাহারে আসামিদের নাম উল্লেখ করলেও এজাহারটি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রেকর্ড করা হয়েছে।

নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌরসভার খামার নাচকৈড় খোয়ারপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার বাবা রবিউল করিম।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন শাকিল। এ সময় তাকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা।

সেদিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বিছানায় শুয়ে শাকিল বলেছিলেন, চাঁচকৈড় বাজার থেকে রাত ৯টার দিকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বাজারপাড়া এলাকার নুর একাডেমির কাছে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলি থেকে বাঁচতে তিনি দৌড় দেন। গুলি তার গায়ে না লাগায় দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে ধাওয়া করে। পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার আগেই মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সুমন রহমান জানান, বাজারপাড়ার শহীদা জলিল স্কুলের কাছে পরপর দুটি গুলির শব্দ শুনতে পান তারা। পরে এগিয়ে গিয়ে শাকিলকে দৌড়ে যেতে দেখেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করছিলেন। কিছুক্ষণ পর ওই দুজনকে রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে ফিরে যেতে দেখেন তিনি। পরে শহীদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে শাকিলের চিৎকার শুনে সেখানে গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নওশিন জাহান বলেন, গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ বলেন, হামলার রাতেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে শাকিলকে অন্তত পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার অবনতি হলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের কিডনি কাজ করছিল না। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয়। আইসিইউতে রাখার পর লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। সবশেষ সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসকেরা শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

/আরএইচ/
সম্পর্কিত
মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন যুবক, গুলি করে চলে গেলো দুজনে
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৪৩, মামলা ৩৮
১২ দিন চেষ্টা চালিয়েও ছাত্রদল নেতা শাকিলকে বাঁচানো গেলো না
সর্বশেষ খবর
গ্রিড বিপর্যয়ে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ নেই
গ্রিড বিপর্যয়ে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ নেই
ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ শুরু, নেতানিয়াহু-আইজেনকট হাড্ডাহাড্ডি লড়ায়ের আভাস
ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ শুরু, নেতানিয়াহু-আইজেনকট হাড্ডাহাড্ডি লড়ায়ের আভাস
‘বিগ বি’ উদ্যোগ যৌথভাবে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-জাপান একমত
‘বিগ বি’ উদ্যোগ যৌথভাবে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-জাপান একমত
সবার ওপরে কেইন, মেসি-এমবাপ্পেরা কত নম্বরে?
সবার ওপরে কেইন, মেসি-এমবাপ্পেরা কত নম্বরে?
সর্বাধিক পঠিত
বন্ধ হয়ে গেলো ঢাকার দুই দশক পুরোনো শপিং মল
বন্ধ হয়ে গেলো ঢাকার দুই দশক পুরোনো শপিং মল
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলো আরেক পোশাক কারখানা
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলো আরেক পোশাক কারখানা
সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ
সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, এরপর যা ঘটলো মাসুদের সঙ্গে
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, এরপর যা ঘটলো মাসুদের সঙ্গে
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরামে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে এনএসআই প্রধান
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরামে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে এনএসআই প্রধান