বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাঁদের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি শেয়ার, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক হিসাবের লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এসব তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ।
বিএফআইইউর চিঠিতে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর হিসাব খোলার ফরম, লেনদেনের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য চিঠি পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইনের আওতায় এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে অপেশাদার আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনার তদন্ত চলছে।
সূত্র জানায়, প্রথম ঘটনাটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারির। ওই দিন নতুন গভর্নর নিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে কয়েকটি আদেশে জোরপূর্বক সই করানোর অভিযোগ ওঠে মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে।
মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগটি তদবির-সংক্রান্ত। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চিকিৎসক এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যাতে কোনও ব্যবস্থা না নেয়, সে বিষয়ে একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিএফআইইউর পক্ষ থেকে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
তবে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের বিষয়ে বিএফআইইউর চিঠিতে কী কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলও প্রকাশিত হয়নি।