সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে খাবার হোটেলের বেসিনের সামনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে সার ডিলারের লাইসেন্স পেয়েছেন রূপবাটি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আকরাম হোসেন। সার ডিলার নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর গুদাম প্রস্তুত থাকা বাধ্যতামূলক। তবে আকরাম হোসেনের ক্ষেত্রে সেই শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গুদামের বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ে কৃষি অফিসের তদন্তের কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি দক্ষিণপাড় বাজার বাসস্ট্যান্ডে আকরাম হোসেনের খাবার হোটেলের বেসিনের সামনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। সেখানে সার সংরক্ষণের উপযোগী কোনও গুদাম প্রস্তুত নেই। হোটেলের বেসিনের সামনের ওই জায়গাটিকেই গুদাম হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে হোটেলের কর্মচারী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হোটেলের ম্যানেজার জুবায়ের হোসেন বলেন, এটা সারের গুদাম। আপাতত এটি হোটেল আছে, ভবিষ্যতে সারের গুদাম হবে।
সার ডিলারের লাইসেন্স পাওয়া আকরাম হোসেন বলেন, লাইসেন্সের আবেদনের সময় হোটেলের ভেতরে গুদামের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। সারের বরাদ্দ পেলে হোটেলটিকে গুদামে রূপান্তর করা হবে।
বেসিনের সামনে সাইনবোর্ড লাগানো নিয়ে তদন্তে কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমস্যা হয়নি। আমি তখন বলেছি, লাইসেন্স পেলে হোটেলকে গুদাম বানাবো।
তবে সার ডিলার নিয়োগের আগে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আবেদনকারীদের কাগজপত্র ও গুদাম সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গুদাম প্রস্তুত থাকা বাধ্যতামূলক হলেও হোটেলের বেসিনের সামনে সাইনবোর্ড লাগানো অবস্থায় কীভাবে সেটিকে গুদাম হিসেবে বিবেচনা করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, একটি কমিটির মাধ্যমে সার ডিলারের আবেদনকারীদের কাগজপত্র ও গুদাম সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। শিশির এন্টারপ্রাইজের মালিক আকরাম হোসেনের দুটি গুদাম রয়েছে। হোটেলের অপর পাশে রাস্তার বিপরীত দিকে তার আরও একটি গুদাম আছে। হোটেলের বেসিনের সামনে যে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, সেটিও একসময় গুদাম হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
লাইসেন্সের আবেদনে একজন আবেদনকারীর একটি গুদামের তথ্য দেওয়ার বিধান থাকলেও কৃষি অফিস থেকে আকরাম হোসেনের দুটি গুদাম থাকার কথা বলা হয়েছে। এতে হোটেলের বেসিনের সামনে গুদামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ নেই। আপনার মাধ্যমে জানলাম। আমরা তদন্ত করে দেখবো।