হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি কিছুটা বেড়েছে। আগে এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১৩০ থেকে ১৫০ ট্রাকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ভারতীয় পাথর এবং রমজানে পেঁয়াজের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বেড়েছে।এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বোল্ডার পাথর, চিপস পাথর, পেঁয়াজ, গম, ভুট্টা, খৈল, ভুষি, চাল, শুটকি মাছ, সেলাইমেশিন পার্টস, মোটরসাইকেল পার্টসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়।
হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ দিনে বন্দর দিয়ে ১ হাজার ২ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে গত ৭ জুন ১৬৪ ট্রাক, ৮ জুন ৫৮ ট্রাক, ৯ জুন ১৫৮ ট্রাক, ১১ জুন ১৭১ ট্রাক, ১২ জুন ১৫৪ ট্রাক, ১৩ জুন ১৩৮ ট্রাক এবং ১৪ জুন ১৫৮ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৯৪০টি ট্রাকে ৬৮ হাজার ৬৩১ টন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৭১৯টি ট্রাকে ৫৩ হাজার ৮১০ টন, মার্চে ১ হাজার ৮৯২টি ট্রাকে ৫৬ হাজার ৪শ’ টন, এপ্রিলে ২ হাজার ৬৬৮টি ট্রাকে ৮৬ হাজার ৬০২ টন, মে মাসে ৩ হাজার ৫৯০টি ট্রাকে ১ লাখ ৭ হাজার ৮৮ টন পণ্য আমদানি করা হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরে পাথরের কাজ সম্পাদনকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আলহাজ্ব জয়নাল আবেদিনের মালিক হায়াৎ মো. শেরেগুল ইসলাম বলেন, আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কোনও পাথর আমদানি হতো না। তবে পদ্মাসেতুর নদী শাসন ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু হওয়ায় পাথরের চাহিদা বেড়েছে। ফলে আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করছেন।
তিনি আরও বলেন,প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক বড় আকারের বোল্ডার ও ছোট আকারের চিপস পাথর আমদানি হচ্ছে। দেশের অন্য বন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে জট সৃষ্টি হওয়ায় তা খালাসে সময় বেশি লাগে। সময় কম লাগায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, রমজানে চাহিদা বাড়ায় পেঁয়াজের আমদানি বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪০/৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাপ জানান, বন্দরের ভেতর থেকে ভারতীয় খালি ট্রাক বের হতে সময় বেশি লাগায় আমদানি কম হতো। বর্তমানে সকালে খালি ট্রাকগুলো বের হয়ে যাওয়ায় সারাদিনই দু’দেশের পণ্য আমদানি-রফতানি চলে।
তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকগুলোর জন্য বন্দরের ভেতরে আলাদা জায়াগা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নির্বিঘ্নে পণ্য খালাস হওয়ায় আমদানিকারকরা পেঁয়াজের আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন।
/এসএনএইচ/এমএসএম/আপ-এনএস/
আরও পড়ুন:








