আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার রায়

কাঙ্ক্ষিত রায়ে অন্যরকম আদালতপাড়া

উদিসা ইসলাম
১৫ জুন ২০১৬, ১৮:০২আপডেট : ১৫ জুন ২০১৬, ১৮:১৫







কাঙ্ক্ষিত রায়ে অন্যরকম আদালতপাড়া শুরু থেকেই অন্যরকম ছিল আদালতপাড়া। বারো বছরের পুরনো ক্ষত বিচারের চূড়ান্ত পর্যায়ে। ন্যায়বিচারেই কেবল সে ক্ষত কিছুটা কমাতে পারে।
দুপুরের নির্ধারিত সময়ের আগে রায় শুনতে হাইকোর্টে আসেন নিহত আহসানউল্লাহ মাস্টারের ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। আর আদালত চত্বরে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী। ন্যায়বিচার প্রত্যাশী এসব মানুষ আহসানউল্লাহ মাস্টার ও জাহিদ আহসান রাসেলের এলাকা থেকে এসেছেন।
বিচার প্রত্যাশীরা এসময় বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে চোখের সামনে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর ন্যায়বিচারের আশায় আজ ১২বছর পথ চেয়ে আছি। অপেক্ষারও তো শেষ থাকে।
এরপরই দুপুর ১টার পর জানা যায় আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সেসময় জানা যায়, উচ্চ আদালতে ব্যতিক্রম হিসেবে এ মামলার রায় শুরু করেছেন বাংলায়। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের প্রথম অংশ বাংলায় পড়েন।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে একটি আদর্শকে হত্যা করা হয়েছে। দেশে সুষ্ঠু রাজনীতির বিকাশ না ঘটলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তার মত রাজনীতিবিদ পাওয়া দুষ্কর।
এ হত্যাকাণ্ডকে মাস কিলিং উল্লেখ করে আদালত বলেন, এ হত্যাকাণ্ড একইসঙ্গে মাস কিলিং। একটি জনসভায় তাকে তিন দিক থেকে আক্রমণ করা হয়েছিলো।
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের ধরণ বুঝতে এ হত্যাকাণ্ডটি একটি উদাহরণ। এ হত্যার মধ্য দিয়ে তার ভালবাসা থেকে স্ত্রীকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সন্তানকে তার পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর গাজীপুরে জন্মগ্রহণ করেন আহসানউল্লাহ মাস্টার। ১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করে তৎকালীন কায়েদে আযম কলেজে (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ) একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭০ সালে ডিগ্রি পাস করার পর তিনি টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
এর আগে ছয় দফা ও ১১ দফাসহ বাঙালির মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৩ ও ১৯৮৮ সালে দুবার পুবাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আহসানউল্লাহ মাস্টার। পরে ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে মামলার আসামি বিএনপির নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। মৃত্যদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আল আমিন ও রতন ওরফে ছোট রতন নামের দুজন মারা গেছেন। বাকি ২৬ জনের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে আটক আছেন, নয়জন পলাতক।
এপিএইচ/

আরও পড়ুন: 

আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা: ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, সাতজনের যাবজ্জীবন

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম