বন্যার পানির তোড়ে সোমবার (২৬ জুলাই) লালমনিরহাটে ধরলা নদীর ওপর নির্মাণাধীন দ্বিতীয় সড়ক সেতুর এ্যাপ্রোচ সড়ক দুইশ মিটার ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে সেতুর নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা কন্সট্রাকশন লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সরজমিনে জানা গেছে, লালমনিরহাটের কুলাঘাট ইউনিয়ন ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যে ধরলা নদীতে দ্বিতীয় ধরলা সড়ক সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
বন্যা কবলিত কুলাঘাটের দক্ষিণ এলাকার লোকজন বলেন, উজানের ঢলের পানির সঙ্গে আসা বালু ও পলি পড়ে ধরলার বুক ভরাট হয়ে গেছে। নদীর গভীরতা না থাকায় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না। এ কারণে নদী ভাঙন ও বন্যা দেখা দিচ্ছে। এতে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
তারা বলেন, ‘আমার এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। আমরা সরকারের ত্রাণ সহায়তা চাই না, চাই নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণ।’
একই এলাকার সোহরাব হোসেন বলেন, সোমবার রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির উঠানে বন্যার পানি। বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে গেছে। এ রাস্তাটি ভেঙে দক্ষিণ শিবেরকুটি এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
কুলাঘাট ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বলেন, দ্বিতীয় ধরলা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কটি ভেঙে বন্যার পানি ঢুকে কুলাঘাটের কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। দক্ষিণ শিবেরকুটিতে এলজিইডির আঞ্চলিক নির্মাণাধীন পাকা সড়কের চার স্থানে ভেঙে গেছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
বন্যার পানি ঢুকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভারতীয় কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমা এলাকায় ধরলার বুকে জেগে ওঠা দরিবাস, বাদরকুটি, নাগরটারী ও দারি ধরলা চরের কয়েকশ মানুষ লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ও আদিতমারী উপজেলার দুরাকুটি ইউনিয়নে আশ্রায় নিয়েছে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল বজলুর রহমান হায়াতী বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ আশ্রয় নিতে এসেছিল। তাদের নৌকার মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবেন।
এলজিইডির লালমনিরহাট নির্বাহী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, দ্বিতীয় ধরলা সড়ক সেতুর অ্যাপ্রোচ ভেঙে কুলাঘাটের দক্ষিণ শিবেরকুটি এলাকা বন্যার পানির প্রবল স্রোতে আঞ্চলিক সড়কে চারটি স্থান ভেঙে গেছে। এসব পরির্দশন করে সদর উপজেলা প্রকৌশলীকে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছি।
দ্বিতীয় ধরলা সড়ক সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান বলেন, বন্যার কারণে আপাতত সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে লালমনিরহাট অংশের এ্যাপ্রোচ সড়কটি ২০০ মিটার ভেঙে গেছে। অবশিষ্ট অংশটি রক্ষার জন্য বাঁশের পাইলিং দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে চাল, নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হলেও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
গাইবান্ধায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি
/এসটি/আপ-বিটি/







