রংপুর নগরীর মাহিগজ্ঞ বালাটারী এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে নুরন্নবী নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তিন সদস্যের পুলিশি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার থেকে পরবর্তি তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য পিটিয়ে যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। আজ শনিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুরন্নবীর স্বজনদের অভিযোগ, আজ শনিবার গভীর রাতে কোতোয়ালি থানার দুই এস আই তারেক ও এস আই তোফাজ্জলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বালাটারী মহল্লার ডা. এছাহাক আলীর ছেলে নুরন্নবীর বাসায় আসে। প্রথমে তার ছোট ভাই গোলজার হোসেনকে আটক করে হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। এরপর পুলিশ তার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করে। গোলজার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করে।
এক পর্যায়ে গোলজার ৮০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা আজ দুপুরের মধ্যে থানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ওই এস আই। এরপর বড় ভাই নুরন্নবীকে আটক করে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে নুরন্নবী জ্ঞান হারিয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন এবং সেখানেই সে মারা যান।
এরপর পুলিশ তড়িঘড়ি করে নুরন্নবীর লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেড হাউজে নিয়ে যায়। তবে তাদের স্বজনদের পুলিশ বলে যায়, জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে বলে নুরন্নবীকে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে তারা।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে পুলিশের এসআই তারেক ও তোফাজ্জলকে গ্রেফতার দাবি জানাচ্ছে। স্বজনদের দাবি, পুলিশ অন্যায় ভাবে নুরন্নবীকে আটক করে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
নিহত নুরন্নবীর স্ত্রী আরজিনা বেগম অভিযোগ করেছেন, আজ ভোরে দারোগা তারেক ও তোফাজ্জলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাসায় এসে আমার স্বামী নুরন্নবী ও দেবর গোলজারকে হাতে হাত কড়া লাগিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। গোলজার ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তার হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আমার স্বামীর কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে না পাওয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে পুলিশ। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করেন।
এদিকে নিহত নুরন্নবীর ছোট ভাই গোলজার হোসেন বলেন, পুলিশ গভীর রাতে বাসায় এসে ঘুম থেকে ডেকে তুলে কোনও কথা না বলেই হাতে হাতকড়া পড়ায়। এরপর বলে আমরা নাকি মোটরসাইকেল চুরি করেছি। এ সময় আমি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসার কথা জানিয়ে দোকানের ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজ দেখালে দুই পুলিশ তারেক ও তোফাজ্জল বলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা না দিলে মোটরসাইকেল চুরি মামলায় চালান করে দেবে। ভয় দেখিয়ে ৮০ টাকা নেয়। বাকি টাকা দেওয়ার জন্য দুপুর পর্যন্ত সময় দেয়। কিন্তু বড় ভাই নুরন্নবীকে হাতে হাতকড়া পরিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে পুলিশ।
তবে কোতোয়ালি থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় চোর আটক করা হলে সে নুরন্নবীর নাম বলে। সেই সূত্র ধরে পুলিশ তার বাড়িতে যায়। ওই সময় পুলিশকে দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় নুরন্নবী হার্ট ফেল করে মারা গেছে।
আরও পড়ুন-
পদত্যাগে বাধ্য হয়েছি, চাকরিতে ফিরতে চাই: এসপি বাবুল
দুই আবেদনপত্রে যা লিখেছেন বাবুল আক্তার
/এফএস/








