রংপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: পুলিশের ৩ সদস্যের কমিটি

রংপুর প্রতিনিধি
২০ আগস্ট ২০১৬, ১৩:১০আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৬, ১৩:১৫

নিহত নুরুন্নবী রংপুর নগরীর মাহিগজ্ঞ বালাটারী এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে নুরন্নবী নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তিন সদস্যের পুলিশি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার থেকে পরবর্তি তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।

রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য পিটিয়ে যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। আজ শনিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নুরন্নবীর স্বজনদের অভিযোগ, আজ শনিবার গভীর রাতে কোতোয়ালি থানার দুই এস আই তারেক ও এস আই তোফাজ্জলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বালাটারী মহল্লার ডা. এছাহাক আলীর ছেলে নুরন্নবীর বাসায় আসে। প্রথমে তার ছোট ভাই গোলজার হোসেনকে আটক করে হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। এরপর পুলিশ তার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করে। গোলজার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করে।

এক পর্যায়ে গোলজার ৮০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা আজ দুপুরের মধ্যে থানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ওই এস আই। এরপর বড় ভাই নুরন্নবীকে আটক করে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে নুরন্নবী জ্ঞান হারিয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন এবং সেখানেই সে মারা যান।

এরপর পুলিশ তড়িঘড়ি করে নুরন্নবীর লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেড হাউজে নিয়ে যায়। তবে তাদের স্বজনদের পুলিশ বলে যায়, জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে বলে নুরন্নবীকে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে তারা।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে পুলিশের এসআই তারেক ও তোফাজ্জলকে গ্রেফতার দাবি জানাচ্ছে। স্বজনদের দাবি, পুলিশ অন্যায় ভাবে নুরন্নবীকে আটক করে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

নিহত নুরন্নবীর স্ত্রী আরজিনা বেগম অভিযোগ করেছেন, আজ ভোরে দারোগা তারেক ও তোফাজ্জলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাসায় এসে আমার স্বামী নুরন্নবী ও দেবর গোলজারকে হাতে হাত কড়া লাগিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। গোলজার ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তার হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আমার স্বামীর কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে না পাওয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে পুলিশ। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করেন।

এদিকে নিহত নুরন্নবীর ছোট ভাই গোলজার হোসেন বলেন, পুলিশ গভীর রাতে বাসায় এসে ঘুম থেকে ডেকে তুলে কোনও কথা না বলেই হাতে হাতকড়া পড়ায়। এরপর বলে আমরা নাকি মোটরসাইকেল চুরি করেছি। এ সময় আমি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসার কথা জানিয়ে দোকানের ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজ দেখালে দুই পুলিশ তারেক ও তোফাজ্জল বলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা না দিলে মোটরসাইকেল চুরি মামলায় চালান করে দেবে। ভয় দেখিয়ে ৮০ টাকা নেয়। বাকি টাকা দেওয়ার জন্য দুপুর পর্যন্ত সময় দেয়। কিন্তু বড় ভাই নুরন্নবীকে হাতে হাতকড়া পরিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে পুলিশ।

তবে কোতোয়ালি থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় চোর আটক করা হলে সে নুরন্নবীর নাম বলে। সেই সূত্র ধরে পুলিশ তার বাড়িতে যায়। ওই সময় পুলিশকে দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় নুরন্নবী হার্ট ফেল করে মারা গেছে।

আরও পড়ুন- 

পদত্যাগে বাধ্য হয়েছি, চাকরিতে ফিরতে চাই: এসপি বাবুল
দুই আবেদনপত্রে যা লিখেছেন বাবুল আক্তার

/এফএস/ 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম