কুড়িগ্রামে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গরু ব্যবসায়ীর ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার এসআই ফারুকীসহ ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ পুলিশের বিরুদ্ধে আনা ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২১ আগস্ট) সকালে যাত্রাপুরের গরু ব্যবসায়ী এরশাদ ও নজরুল সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে কুড়িগ্রাম শহরের দিকে আসছিল। এসময় ভুরুঙ্গামারী থানার এসআই ফারুকীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি টিম সিভিল পোশাকে মাইক্রোবাসে করে সদর উপজেলার শুলকুর বাজার এলাকা থেকে তাদেরকে টাকাসহ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা তাদের কোনও খোঁজ না পাওয়ায় হুন্ডি ও গরু ব্যবসায়ীর পরিবারের লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়ে। ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে এসআই ফরুকী গরু ব্যবসায়ীদের ভুরুঙ্গামারী থানায় নিয়ে যায়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পুলিশের একটি উচ্চ মহল জাল টাকার সাজানো নাটক সাজিয়ে পুলিশের সোর্স সাইদুর ও খোকনের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয়।
গরু ব্যবসায়ী এরশাদ জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাপুর হাটে গরুর ব্যবসা করে আসছেন। বেশ কিছুদিন ধরে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে সাইদুর, খোকন ও মিল্টন পুলিশের ভয় দেখিয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। নিয়মিত চাঁদা না দিলে জাল টাকাসহ পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে তাদের দেওয়া ভুয়া তথ্যে পুলিশ ডিবি পরিচয়ে টাকাসহ তাকে ও নজরুলকে তুলে নিয়ে যায়। পরে জাল টাকা না পওয়ায় সেই সোর্সদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
প্রত্যাহার হওয়া এসআই ফারুকী জানান, তিনি সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জের অনুমতি নিয়ে পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান। তিনি যা করেছেন, তাদের অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে করেছেন।
ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ লতিফুল ইসলাম জানান, এরশাদ ও নজরুলের কাছে জাল টাকা থাকার খবর পেয়ে তাদের ধরে থানায় আনা হয়। পরে তাদের কাছে জাল টাকা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশ নাগেশ্বরী ও সদর থানা পুলিশকে না জানিয়ে নিজেদের থানা এলাকা পার হয়ে কুড়িগ্রাম থানার অভ্যন্তরে এসে গরু ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে যেতে পারে কিনা জানতে চাইলে ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি লতিফুর ইসলাম জানান, অফিসিয়াল ফর্মালিটি অনুসরণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ক্লোজড করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মো. তবারক উল্লাহ পুলিশ সদস্যদের টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়টি অস্বীকার করলেও ভুরুঙ্গামারী থানার এসআইসহ পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্যই তাদের ক্লোজড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেতন বাড়ানোর দাবিতে রংপুরে মোটর শ্রমিকদের ধর্মঘটের ডাক
/এআর/








