গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি লিটনের ছোড়া গুলিতে আহত সেই শিশু সৌরভের প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা দিচ্ছে। গোপাল চরণসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৌরভ রবিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ৪ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছে। ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৪৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও সবার দৃষ্টি ছিলো সৌরভের দিকে।
ওই পিইসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মো. নান্নু মিয়া বলেন, ‘সৌরভ পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোই লিখেছে।
পরীক্ষা শেষে সৌরভ বলে, ‘আগে থেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো ছিল। প্রথম দিন ইংরেজি পরীক্ষা ভালো দিয়েছি। এভাবে পরীক্ষা শেষ করতে পারলে খুব ভালো ফলাফল হবে বলে আশা করি। পড়ালেখা করে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ অক্টোবর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সৌরভ তার চাচার সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিল। সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়ক দিয়ে তখন গাড়ি করে যাচ্ছিলেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন। হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে এমপি লিটন গুলি চালান। এসময় একটি গুলি সৌরভের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে লাগে। আরেকটি গুলি ডান পায়ের হাড়ে লাগে। এরপর তাকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৪ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে রংপুর থেকে বাড়ি ফেরে সৌরভ। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ১৪ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ এমপি লিটনকে আটক করে। পরদিন ১৫ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৪ দিন বন্দী থেকে ৮ নভেম্বর তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।মামলাটি এখনো বিচারধীন আছে।
সৌরভের বাবা সাজু মিয়া জানান, প্রথম দিনের পরীক্ষা ভালোই দিয়েছে। মামলার খবর জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘এমপির লোকজন সেই মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। এছাড়া সম্প্রতি তাকে আটকে রেখে মীমাংসা করার নামে জোর করে স্ট্যাম্পে সইও করিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি এমপির এক আত্মীয় ও তার লোকজন মীমাংসা করার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে মাইক্রোবাসে করে শহরে এক বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে এমপি ছিলেন না। ওই লোকজন কথাবার্তার একপর্যায়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। আমি রাজি না হওয়ায় জোর করে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেন তারা। বিষয়টি নিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে থানা থেকে অভিযোগ নেয়নি।’
এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান, ‘এমন কোনও অভিযোগ তিনি পাননি।’
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
তার কোনও লোক এ ধরনের কাজ করেননি বলেও জানান তিনি।
/এমডিপি/







