গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের অভিযোগে চেম্বারের একটি পক্ষ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য মো. পিয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৪ জন নামীয় ও আরও ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়া এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা শহরে পরিবহন ও দোকানপাটে ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সহদোরসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জেলা শহরের মহুরীপাড়ার সোহেল (২৬) ও ছোত্তা মিয়া (২৪), মহুরীপাড়ার হাফেজ মো. আবদুল লতিফ (৩৫) এবং রনি মিয়া (২৮)।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান জানান, ঘটনার পর মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে শহরে জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তিনি আরও জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিতে উভয়ের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, চেম্বারের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ব্যক্তিগত অফিস ভাঙচুর ও শ্যামলী পরিবহনের একটি কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে জেলা শহরে পরিবহণ ও দোকানপাটে ধর্মঘট চলছে। জেলা ট্রাক, ট্রাংকলড়ি কাভার্ড ভ্যান পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও দোকান মালিক সমিতি এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।
ধর্মঘট চলার কারণে জেলা শহর থেকে কোন পরিবহণ চলাচল করছে না। এতে অভ্যন্তরীণসহ দূরপাল্লার পরিবহণ ছেড়ে না যাওয়ায় যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাধারণ সভায় সদস্যদের কথা বলতে না দেওয়ার জের ধরে কয়েক দফায় সংঘর্ষ, অফিস ও কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৮ জন আহত হন।
/এআর/







