রংপুরে রনি মোহন্ত নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন রনিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
বুধবার রাতে রংপুরের বদরগজ্ঞ উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, বদরগজ্ঞ উপজেলা সদরের শাহাপাড়া মহল্লার লক্ষণ চন্দ্রের ছেলে রনি মোহন্তের সঙ্গে এক বছর আগে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী হাজিপাড়া গ্রামের দীপক মোহন্তের মেয়ে অষ্টমী রানীর। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই গৃহবধূ অষ্টমী রানী তার গৃহশিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে বিয়ের আগেও সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন স্বজনরা। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে অষ্টমী রানীর প্রায়ই ঝগড়া হতো। কিছুদিন আগে অষ্টমী স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাবার বাড়ি চলে যান। বুধবার সন্ধ্যায় অষ্টমী তার স্বামীর মোবাইলে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। রনি স্ত্রীকে আনতে গেলে সেখানে আবারও স্ত্রী ও শাশুড়ি আরতি রানিসহ স্বজনদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন রনির হাত-পা বেঁধে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রনিকে প্রথমে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রনির মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হামিদ পলাশ জানান, রনির শরীরের ২৭ ভাগ পুড়ে যায়। শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রনি মোহন্তের বড় বোন সন্ধ্যা রানী অভিযোগ করেন, বুধবার তার ছোট ভাই রনিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে। ভাই হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচার দাবি করেন তিনি।
নিহত রনির বড় ভাই বাবুল চন্দ্র জানান, এ ঘটনায় তিনি বদরগজ্ঞ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বদরগজ্ঞ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান প্রধান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন:
আমাদের ভেতরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অনুপ্রবেশ হচ্ছে না: বিজিবি মহাপরিচালক
/বিটি/








