আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে সৌদিতে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে ৬ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন নীলফামারীর ডোমারের লাকী বেগম (২৬)। এদিকে মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারের।
জানা যায়, উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোকছেদ আলীর মেয়ে লাকীকে চাকরি দেওয়ার নামে একই এলাকার সামসুল হক মুন্সির ছেলে (আদম বেপারী) গোলাপ হোসেন ঢাকায় নিয়ে যায়।
৬ মাস আগে (মার্চ মাসে) লাকী তার বাবাকে জানায়, ‘গোলাপ আমাকে গৃহকর্মীর কাজে সৌদিতে পাঠাচ্ছে, কিছুক্ষণের মধ্যে প্লেন ছাড়বে।’ সেই থেকে লাকীর সঙ্গে তার পরিবারের কোনও যোগাযোগ নেই। এরই মধ্যে জুন মাসে লাকীর বাড়িতে এসে গোলাপ হোসেন তার আরেক বোন লাজীনা বেগম লাজীকে বিদেশে পাঠার নাম করে পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরির কথা বলে ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
১ মাস পরে লাজীর পার্সপোট নিয়ে গোলাপ হোসেন আবার হাজির হয় তার বাড়িতে। পরে ভিসার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করলে লাজীর পরিবার টাকা দিতে অস্বীকার করে। পরে লাকীকে কোথায় নিয়ে গেছে জানতে চাইলে পাসপোর্ট নিয়ে সু-কৌশলে উধাও হয় গোলাপ।
গত ঈদুল ফিতরে সৌদি থেকে লাকী তার বাবাকে ফোনে বলে, ‘গোলাপ আমাকে পাচার করে দিয়েছে। সেখানে বাড়ির মালিক আমাকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করছে। টাকা পাঠালে তারা আমাকে ছেড়ে দিবে। ৩ মিনিট কথা বলার পর থেকে আজও পরিবারের সঙ্গে লাকীর কোনও কথা হয়নি।
এরপর গত ২৭ জুলাই সৌদির এক বিকাশের দোকান থেকে ফোন আসে লাকীর পরিবারের কাছে। সেখান থেকে জানানো হয় লাকী হারিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে গোলাপের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা অফিসের মাধ্যমে লাকি বিদেশে গেছে। সেখান থেকে হারিয়ে গেলে আমার কিছু করার নাই।’
সেই থেকে লাকীর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ব্যাপারে, লাকির বাবা ডোমার থানায় মামলার প্রস্ততি নিচ্ছে।
ডোমার থানার ওসি মো. মকছেদ আলী জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এআর/








