প্রতারণা করে সরকারের কাছ থেকে বিশেষ ভাতা তুলে নিচ্ছেন স্বামী-স্ত্রী। বয়স্ক ভাতা পেতে বয়সের শর্ত পূরণ না হওয়ার পরও স্বামী আব্দুল মজিদ (৫৫) তুলছেন বয়স্ক ভাতা। আর তিনি জীবিত থাকাবস্থায়ই বিধবা ভাতা তুলে নিচ্ছেন স্ত্রী মজিদা বেগম (৪৫)।গত তিন বছর ধরে এই দুই জন নিয়মিত ভাতা তুলছেন। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পাঙ্গামটকপুর খামাত পাড়া এলাকায় এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমাজ সেবা অধিদফতরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কাজের সততা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
আব্দুল মজিদ ও মজিদা বেগম ভাতা তোলার কথা বাংলা ট্রিবিউনের কাছে স্বীকার করেছেন।
আব্দুল মজিদ পাঙ্গামটকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মটকপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খামাতপাড়া গ্রামের মৃত আফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিন বছর আগে তাকে সমাজসেবা উপজেলা কার্যালয় একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড (কার্ড নং- ২৯১০) দেয়। তার স্ত্রী মজিদা বেগমের বিধবা ভাতার কার্ড নম্বর ২৭০০।
স্থানীয়রা জানান,আব্দুল মজিদ খামাতপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন। তিন বিঘা জমিতে তিনি নিয়মিত চাষাবাদ করেন।
উপজেলার পাঙ্গামটকপুর ইউপি চেয়ারম্যন আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আগের চেয়ারম্যান-মেম্বারের আমলে এই অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে নিয়মিত (স্থায়ী) কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে।’
ডোমার উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নীলফামারী সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘কে কার স্বামী-স্ত্রী, আমরা চিনি না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নাম দিয়েছেন। আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি মাত্র।’
বয়স্ক ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম হলো পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর এবং মহিলাদের সর্বনিম্ন ৬২ বছর হতে হবে। প্রার্থীর গড় আয় অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা হতে হবে।
বিধবা ভাতা প্রদানের সরকারি নিয়মে বলা হয়েছে ‘বিধবা’ বলতে তাদেরই বোঝানো হবে যাদের স্বামী মৃত।
/এনআই/এফএস/








