গত এক মাসে হিলি সীমান্তসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্যসহ ভারতীয় বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চোরাচালানের অভিযোগে দুইজনকে আটকও করা হয়েছে। জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এসব অভিযান চালিয়েছে।
জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সদস্যরা হিলিসহ আশেপাশের সীমান্ত এলাকায় গত আগস্ট মাসে সর্বমোট ৪৪২টি অভিযান চালান বলেও জানানো হয়েছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্য মতে উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে, ডেক্সিন ট্যাবলেট এক লাখ ৩০ হাজার ৫৫০, প্রাকটিন ট্যাবলেট ১২ হাজার ৪৫০, কমান্ডো বিষ ৪০ প্যাকেট, শাড়ি ২০৭টি, জিরা ৯৫ কেজি, ছাগল দুটি, শার্ট ১৩টি, প্যান্ট পিস ১১৮টি, বাইসাইকেল ১১টি, হরলিক্স ৮১টি, বাজি (পটকা) পাঁচ হাজার ৫১২ প্যাকেট, চেরিফল ৫০ কেজি, মোটরসাইকেল ৩টি, স্টিল ১৪৭.২ কেজি, গাড়ির যন্ত্রাংশ পাঁচটি, ফুচকা ২৫১ কেজি, স্কিন ক্রিম দুই হাজার পিস, লোহার রেত ১৫০টি, পোস্তদানা ৩৯ কেজি, প্লেয়িং কার্ড ছয় হাজার ৫৮৩ প্যাকেট, আনার ফল ৩০ কেজি, গরু দুটি, শনপাপড়ি ২৬ প্যাকেট, লবণ তিন হাজার ৭০৫ কেজি, বিটলবণ এক হাজার ৫৪২ কেজি, বেটনোভিট ক্রিম দুই হাজার ৫৯৫ পিচ, ফেনসিডিল চার হাজার ৫৩১ বোতল, মদ ১৯১ বোতল, বিয়ার ছয় বোতল, গাঁজা ০.৫ কেজি, নেশাজাতীয় কুপিজেসিক ইনজেকশন এক হাজার ৬২০ পিচ, স্কপ সিরাপ ১৩২ বোতল, ম্যাকডিল তিন বোতল, লুজ ম্যাকডিল ০.৫ লিটার। উদ্ধারকৃত এসব মালামালের বিজিবি নির্ধারিত মোট সিজার মূল্য এক কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮৫ টাকা। মালামালগুলো হিলি শুল্ক গুদামে এবং দুই আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ মোহাম্মদ আনিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকা দিয়ে মাদকসহ অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান রোধে সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদাড়ি বৃদ্ধি, টহল ব্যবস্থা জোরদার ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সীমান্তের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গত এক মাসে এক কোটি ৪২লাখ ৭৭ হাজার ৫৮৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্যসহ ভারতীয় বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি এবং এর সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান রোধে বিজিবির পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
আরও পড়ুন- একদিকে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস, অন্যদিকে পুড়িয়ে মারার হুমকি







