গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লিতে অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে তিন সাঁওতালকে হত্যা মামলার আসামি ইউপি সদস্য শাহ আলমকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাইবান্ধার উপ-পরিদর্শক শ্রী প্রভাত চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় শাহ আলমসহ ৩৩ জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাদী গাইবান্ধার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী প্রভাত চন্দ্র বর্মন জানান, গ্রেফতার শাহ আলমকে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে রবিবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহ আলমকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের একটি দল। এ সময় শাহ আলমের সমর্থকরা তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে এসআই মোজাম্মেল হক, এসআই প্রভাত, এএসআই শাহ জালাল ও কনস্টেবল বজলু রহমান আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আট রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
পিবিআই গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন মিয়া জানান, সাঁওতাল পল্লিতে হামলার ঘটনায় দায়ের মামলায় শাহ আলম এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া শাহ আলম একজন জ্বীনের বাদশার সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ নভেম্বর সাঁওতাল পল্লিতে হামলার ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে থমাস হেমব্রন বাদী হয়ে ৩৩ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।








