জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেছেন, ‘প্রয়াত সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন নবীন নেতা। তিনি নবীন হলেও তার যোগ্য নেতৃত্ব আওয়ামী লীগেকে সু-সংগঠিত করেছিল। ছাত্র রাজনীতি থেকেই লিটন নিজ নেতৃত্বে শক্ত হাতে রাজাকার গোলাম আজম ও আবদুল আজিজসহ ছাত্র শিবিরের সভা-সমাবেশ পণ্ড করেছিরেন। লিটন জামায়াত-শিবিরকে সুন্দরগঞ্জের মাটি থেকে উৎখাত করেছিলেন।’
রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পরিবারের আয়োজনে নিজ বাড়ি চত্বরে স্বরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলে রাব্বি আরও বলেন, ‘এমপি লিটন নবীন আর এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ ছিলেন প্রবীণ নেতা। নবীণ ও প্রবীণ দুই নেতা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আমরা তাকেও সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছি। দুই এমপির যোগ্য নেতৃত্বে সুন্দরগঞ্জের মাটি ও মানুষের কল্যাণসহ সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ছিল দৃশ্যমান। এক বছরের মধ্যে আমরা দুই এমপিকে হারিয়েছি। দুই এমপির মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজাকার আর জামায়াত-শিবিবের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে আমাদেরকেও সু-সংগঠিত থাকার অঙ্গীকার করতে হবে।’
স্বরণসভায় লিটনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এমপি, গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, নিহত লিটনের বড় বোন শিল্পপতি আফরোজা বারী ও স্ত্রী সৈয়দ খুরশিদ জাহান স্মৃতি। এছাড়া স্বরণসভায় জেলা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
এর আগে, সকালে লিটনের নিজ বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার (মাস্টারপাড়া) গ্রামের বাড়ির উঠানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ সাবেক এমপি ডা. আবদুল কাদের খাঁনকে প্রধান করে তার সহযোগী আট জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। কিন্তু আসামিরা কারাগারে থাকলেও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার ভারতে পলাতক থাকায় এখনও বিচারকাজ শুরু হয়নি। তবে আগামী ৮ জানুয়ারি মামলার নথি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জজ আদালতে নিয়ে বিচারকাজ শুরু করা হবে বলে জানান গাইবান্ধা জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. শফিকুল ইসলাম (শফিক)।








