দিনাজপুরের হিলি রেলস্টেশনের সব কার্যক্রম আগামী ১০ দিনের মধ্যে সচল করা না হলে মানবন্ধনসহ হিলি রেলপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় হিলি রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে রেলস্টেশন চালুর দাবিতে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সন্মেলনে হিলি পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, ‘দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম।প্রতিদিন শত শত দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রী, আমদানি-রফতানিকারকরা এই রেলপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। তারাসহ সাধারণ জনগণ ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে হিলি রেলস্টেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে। কিন্তু গত ৭ জানুয়ারি জনবল অভাবের অজুহাতে হিলি রেলস্টেশনটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং হিলি রেলস্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচলকারী সব ট্রেনকে ২নং লাইন দিয়ে চলাচলের জন্য সরাসরি করে দেওয়া হয়। এতে করে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও হিলি রেলস্টেশন বন্ধ করে দেওয়ায় কোনও যাত্রী এখানে টিকিট পাচ্ছেন না। এই রেলপথ দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন ১১টি ট্রেন যাতায়াত করলেও থামে মাত্র ৩টি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ জানুয়ারি দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে রেলমন্ত্রীর কাছে হিলি রেলস্টেশনটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তা ফের চালু ও সব ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবি জানান। পরে মন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ১৪ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাই আগামী ১০ দিনের মধ্যে হিলি রেলস্টেশনের সব কার্যক্রম চালু করা না হলে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি হিলি রেলস্টেশনে মানববন্ধন এবং আগামী ১ মার্চ হিলি রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, হিলির ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম শামসুল হুদা খান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র মিনহাজুল ইসলাম, হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরীসহ আরও অনেকে।








