নীলফামারীর সরকারি হাই স্কুল মাঠে ৩৭তম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন (আগামী শুক্রবার) শুরু হতে যাচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন ৯ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে বলে জানান আয়োজক কমিটি। বাকী সাজ সজ্জার কাজ পুরোদমে চলছে। শুক্রবার (৯ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ওই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি।
বুধবার (৭ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে ওই মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সাজ সজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। এসব কাজের তদারকি করছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক খায়রুজ্জামান ও উত্তম কুমার জানান, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী শহর জুড়ে চলছে সাজ সজ্জার কাজ। বিভিন্ন দেওয়ালে সোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের ছবিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি রয়েছে। এছাড়াও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যসহ বিভিন্ন পশুপাখি ও গাড়িয়াল ভাইয়ের ছবি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হারুন অর রশীদের নির্দেশনায় চারুকলা বিভাগের ১৫ জন তরুণ শিক্ষার্থী এসব ছবি এঁকেছেন। এ ছাড়াও রয়েছে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাছাইকৃত ৮৮ জন ক্ষুদে শিল্পী। গ্রামগঞ্জে ব্যাপক প্রচার প্রচারনাসহ চলছে মাইকিং।
এ ব্যাপারে আয়োজক কমিটির সদস্য উত্তম কুমার তরফদার বলেন, ‘আমাদের মাঠ সজ্জার কাজ ৯৫ শতাংশের বেশি শেষ হয়ে গেছে।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ডা. মজিবুল হাসান শাহিন চৌধুরী বলেন,‘আগামী ৯ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী এ জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলনের প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ের দিকে।’
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন,‘জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সঙ্গে কাজ করছে ১৮টি উপকমিটি। ওই তিনদিন কাজ করবে শতাধিক সেচ্ছাসেবক, আনসার ও পুলিশ বাহিনী।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘জাতীয় সম্মেলনে দেশের ৮৪টি রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের প্রায় আট শতাধিক প্রতিনিধি যোগ দেবেন। ওই সম্মেলনে রবীন্দ্র সঙ্গীত ছাড়াও, গুণিজন সম্মাননা, সেমিনার, নজরুল সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক ও বাংলা গান পরিবেশিত হবে। প্রতিদিন উত্তর অঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
আরও পড়ুন: ‘রোহিঙ্গাদের ভয় দেখানোর জন্যই ফাঁকা গুলি করেছে’








