রংপুর বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও ডিসি অফিস ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। রংপুরের আইনজীবীরা রবিবার সকাল থেকে পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করেছে।
রংপুর আইনজীবী সমিতির উদ্যেগে রংপুরের সব আদালতে পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালিত হয়েছে।আইনজীবীরা আদালতের কোনও বিচার কার্যে অংশ নেননি। আইনজীবীরা দুপুরে আদালত চত্বর থেকে মৌন মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু।
এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তারপরও ৩ দিনেও বাবু সোনাকে উদ্ধার করা যায়নি কেন তা আইনজীবীরা জানতে চায়।’ তারা আইনজীবীদের নিরাপত্তা দেওয়াসহ নিখোঁজ বাবু সোনাকে উদ্ধারের দাবি জানান।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ রংপুর জেলা শাখা ও পুজা উদযাপন পরিষদের উদ্যেগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন,ঐক্য পরিষদের সভাপতি বনমালী পাল ও ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ আফজাল। সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয় নিখোঁজ আইনজীবীকে উদ্ধার করতে না পারলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ডিসি অফিস ঘেরাও করে স্মারক লিপি দেন তারা।
অন্যদিকে একই দাবিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। দুপুরে রংপুর টাউন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে। পরে ডিসির কাছে স্মারক লিপি দেওয়া হয়।
এসময় পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী মো. জুন্নুন অভিযোগ করে বলেন,‘বাবু সোনা শুধু আইনজীবীই ছিলেন না তিনি রংপুর জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিন দিনেও কেন তাকে উদ্ধার করা হলো না আমরা তা জানতে চাই। তিনি অবিলম্বে তাকে উদ্ধারের দাবি জানান।’
এদিকে দুপুরে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ নিখোঁজ আইনজীবী বাবু সোনার নগরীর আলম নগর বাবু পাড়ার বাসায় যান। সেখানে তার স্ত্রী দীপা ভৌমিক, ছোট ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিকসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘জঙ্গি মামলার তিনি পিপি ছিলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতাসহ সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকেই আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: আমার মা-ভাইরে মারছে ‘তানিয়া’







