জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা সদরের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এরই জেরে প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মঙ্গলবার দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী।
যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা হলেন- ফিরোজ কবির, আনোয়ার হোসেন, ওবায়দুর রহমান, তোফাজ্জল হোসেন ও আহসান হাবিব। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানাজানির পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ‘কমিটি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের মাশুল এখন তাদের দিতে হচ্ছে।’
জানা গেছে, পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়ে এর আগে জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী কাগজপত্রে ত্রুটির অভিযোগে অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম ও মামলার আসামি ৫ শিক্ষকসহ ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। তখন সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয় মোফাজ্জল হোসেনকে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে ক্ষেতলাল উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা ও তার লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে সাইফুল ইসলাম ফের অধ্যক্ষ হন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও অধ্যক্ষ পদে কয়েক দফায় দখল পুনর্দখলের ঘটনা ঘটে। এখনও অধ্যক্ষের কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রাখা আছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলীর কাছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ জন শিক্ষক ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি। পরদিন ক্ষেতলাল থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা না নেওয়ায় তিনি নিজে বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইকবাল বাহার অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
তবে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটিতে দু’জন সভাপতি ও দু’জন অধ্যক্ষের দাবি করায় গত দুই মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটির বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এর জেরেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন বলেন, ‘ওই পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এজাহার হিসেবে গণ্য করার আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। এখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ক্ষেতলাল উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা বলেন, ‘গত মার্চ মাসে ২০ দিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনও সভাপতি নেই। মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে ৫ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দাপট খাটিয়ে অবৈধভাবে সভাপতির পদ বাগাতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটির নিরীহ শিক্ষকদের হয়রানি করা হচ্ছে।’
জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী বলেন, ‘গত ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু দলীয় দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের নির্দেশে তার অনুসারী আব্দুল মজিদ মোল্লা জোর করে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হতে চান। তারা আমার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের লেলিয়ে দিয়েছে। আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রে ত্রুটি পেয়ে ওই শিক্ষকদের বরখাস্ত করেছি। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমার ওপর চড়াও হয়েছে। আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে। যেজন্য আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’







