দিনাজপুরের হিলিতে গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে থাকা শিশু গাছ মরে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরা গাছের নিচ দিয়েই এসব সড়কে চলাচল করছেন পথচারীরা। গাছগুলি অপসারণের কোনও উদ্যোগ নেই কারও। এজন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকারভোগীরা, সরকারও রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০ বছর আগে উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৩টি ইউনিয়নের জামতলি, সাদুড়িয়া, ভাটরা, হরিহরপুর, বাঁশমুড়ি, জালালপুর, জাংগই, খাট্টাউছনা, বিশাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের ২৬টি গ্রামীণ সড়কের ৩৬ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হয় শিশুসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৩৬ হাজার গাছ। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় জয়পুরহাটের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনডিসি) নামে একটি এনজিও ৩০০ উপকারভোগীর মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদী এইসব গাছ রোপণ করে।
ওই চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষে গাছ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের মোট অংশ থেকে এনজিও পাবে ২০ ভাগ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ২০ ভাগ এবং একজন করে উপকারভোগী পাবেন ৬০ ভাগ টাকা। কিন্তু ১০-১২ বছর আগেই গাছগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
হিলির ছাতনি চারমাথাসহ এলাকার স্থানীয়রা জানান, ছাতনি চারমাথা থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে জামতনি সড়কের দুই পাশে লাগানো এসব শিশু গাছ দীর্ঘদিন ধরে মরে গেছে। অনেক সময় সামান্য বাতাসে সড়কের ওপর ভেঙে পড়ছে মরা গাছ। এসব সড়ক দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হলেও এর কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উপকারভোগীরা জানান, সড়কের পাশে ১০ বছর মেয়াদে এসব গাছ লাগানো হলেও মেয়াদ শেষে বাড়তি ১০ থেকে ১২ বছর সময় পার হওয়ার পরও গাছগুলি কাটা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে মরে থাকা এসব গাছ চুরিও হয়ে যাচ্ছে। এতে উপকারভোগীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এনজিও এবং সরকার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সামাজিক বনবিভাগ চরকাই রেঞ্জের কর্মকর্তা গাজী মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলির বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা শিশু গাছের উভয় পাশেই ফসলি জমি রয়েছে। এসব জমিতে সারাবছর সেচ দিয়ে ফসল ফলানো হয়। শিশুগাছ পানি সহনশীল না হওয়ার কারণে মারা যাচ্ছে। এসব গাছ এনজিও কর্তৃক লাগানো, বনবিভাগের নয়। ওই সংস্থাগুলোরই দায়িত্ব সড়কের পাশের গাছ অপসারণের ব্যবস্থা করা। আমাদের কাছে অনুমতি চাইলে আমরা অনুমতি দিয়ে দেবো।’
হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলির বিভিন্ন সড়কের পাশে মরা গাছগুলো সড়কের পাশ থেকে কাটা ও অপসারণ করা জরুরি। এতে যারা সুবিধাভোগী রয়েছে তারাও উপকৃত হবে সেই সঙ্গে সড়ক দিয়ে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন হবে। পাশাপাশি এসব সড়কে আবার নতুন করে গাছ লাগানো যাবে।’






