রমজান মাস আসলেই দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই চাহিদাকে মাথায় রেখে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। পেঁয়াজ আমদানির এমন ধারা অব্যাহত থাকলে আসন্ন রমজান মাসে দেশের বাজারে এর দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে বন্দরের আমদানিকারকরা জানিয়েছেন।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিলি বন্দর দিয়ে আগে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে দেশের বাজারে চাহিদা বাড়ার ফলে বন্দর দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। সে হিসেব বন্দর দিয়ে চলতি মাসের ৩ মে ৬৫টি ট্রাকে ১ হাজার ৩৫৩ টন, ৫ মে ৫১টি ট্রাকে ১ হাজার ৫৪ টন, ৬ মে ৬০টি ট্রাকে ১ হাজার ২২৭ টন, ৭ মে ৫৩টি ট্রাকে ১ হাজার ৮১ টন, ৮ মে ৬৩টি ট্রাকে ১ হাজার ২৯৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গত ৫ দিনে এই বন্দর দিয়ে সর্বমোট ২৯২টি ট্রাকে ৬ হাজার ১২টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
সরেজমিন হিলি স্থলবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে নাসিক, পাটনা, গুজরাট, ইন্দোর, রাজস্থান জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। আর আমদানিকৃত এসব জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে (ট্রাক সেল) প্রকারভেদে ২০ টাকা থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বাংলা হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ খুচরাতে বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান ও মামুনুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগে দেশের বাজারে চাহিদা কম থাকার কারণে বন্দর দিয়ে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে রমজানকে ঘিরে দেশের বাজারে চাহিদা বাড়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। এ কারণে বন্দর দিয়ে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। আরও পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ বন্দর দিয়ে ঢুকবে। পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে রমজানে এর দাম তেমন বাড়বে না, উল্টো কমতে পারে।
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা জানিয়েছেন, বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় এবং দাম বেশি হওয়ায় আমদানিকৃত পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বেড়েছে। এ কারণে দামও কিছুটা কমেছে। দুদিন আগে বন্দর থেকে ২৩ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনলেও আমদানি বাড়ার ফলে দাম কেজিতে দুই টাকা কমেছে। আর আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজ রাজধানী ঢাকা, চিটাগাং, সিলেট, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত থাকলে সামনে রমজানে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না বলেই মনে হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার রেজভি আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি নির্ভর করে দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর। গত ৫ কর্মদিবসে বন্দর দিয়ে ২৯২টি ট্রাকে ৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জেনেছি, সামনে যেহেতু পবিত্র রমজান মাস আসছে তাই দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা আরও বাড়বে তেমনি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানিও বাড়বে বলে আমরা মনে করছি। বন্দর দিয়ে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে এছাড়া এটি পচনশীল পণ্য হওয়ায় বন্দর থেকে দ্রুত যেন পেঁয়াজ খালাস হয় সে ব্যপারে বন্দরের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন।’







