কুড়িগ্রাম জেলায় গত ৩ দিনে কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, রাজারহাট, ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুসহ দেড়শতাধিক মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে শুধু কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১২২ জন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ছোট-বড় বাজার ও শহরগুলোতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিনে ধরে সরকারিভাবে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে কোনও ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে গত ৩ দিন ধরে কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কা বিরাজ করছে।
এরমধ্যে গত ২৯ মে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় কুকুড়ের কামড়ের শিকার হয় শিশুসহ প্রায় ২০ জন।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার বানিয়াপাড়া গ্রামের সুজা মিয়া (৪৮), বাসস্টান্ডপাড়ার আব্দুল হাকিম (৪৫) ও শাহীন (৫০) জানান, তারা রাস্তায় চলার সময় হঠাৎ করে ২-৩টি কুকুর একসঙ্গে এসে কামড়ে চলে যায়। এখন বাধ্য হয়ে সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে এসেছেন তারা।
এদিকে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকাসহ উপজেলাগুলোতে কুকুরের আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাস্তায় কুকুর দেখলেই সে পথে আর হাঁটার সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র আব্দুল জলিল পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না। আমরা খুব শিগগিরেই একটা ব্যবস্থা নেবো।’
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন কর্নারের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিনে শিশুসহ ১২২ জনকে র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫০ জন নতুন করে কুকুরের কামড়ের শিকার। এদের মধ্যে যাদের ক্ষত বেশি তাদের র্যাবিস ভ্যাকসিনের সঙ্গে র্যাবিক্স আইজিও দেওয়া হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ভ্যাকসিন কর্নারের ইনচার্জ বলেন, ‘হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ থাকলেও র্যাবিক্স আইজির সরবরাহ নেই। ফলে অক্রান্তরা এই ভ্যাকসিনটি বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যার প্রতিটির মূল্য এক হাজার টাকা।’
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। যেহেতু কুকুর নিধন করা নিষেধ, সেহেতু কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।’








