সারাদেশের মতো হিলিতেও মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। অভিযানের ফলে দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে কিছু মাদক ব্যবসায়ী আত্মগোপন করেছে।কেউ কেউ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেছে।এছাড়াও কিছু মাদক ব্যবসায়ী তাবলীগ জামায়াতে যোগ দিয়েছে।আবার অনেকে মাদক ব্যবসার পদ্ধতি বদলে এখনও চুটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে অভিযানের সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দিনাজপুরের হিলি একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক বেশ সহজলভ্য। তাই সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসা। এই কারণে অন্য এলাকার তুলনায় হিলিতে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মাদক সেবনকারীদের আনাগোনা অনেক বেশি। আর হিলির অন্য এলাকার তুলনায় দক্ষিণ বাসুদেবপুর সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম চুড়িপট্টিতে মাদক কেনা বেচাসহ সেখানে মাদক সেবনকারীদের আনাগোনা বেশি। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকসেবীরা প্রতিদিন এখানে আসে। এছাড়াও সীমান্তের রেলওয়ে কলোনি, মধ্যবাসুদেবপুর, রাজধানীমোড়, দক্ষিণবাসুদেবপুর, মহিলা কলেজ, সাতকুড়িসহ হাড়িপুকুর ও মংলা এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের ব্যবসা। সীমান্ত পেরিয়ে এসব স্থানে মাদক নিয়ে আসা হয়। পরে দেদারছে বিক্রি করা হয়। অভিযানের ফলে এসব স্থানের ব্যবসা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিন ওইসব এলাকা ঘুরে জানা যায়, সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার ফলে এসব এলাকার চিহ্নিত কিছু মাদক ব্যবসায়ী অভিযানের ভয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিকটাত্মীর বাড়িতে আত্মগোপনে আছে। তবে কেউ কেউ সেখান থেকেই মোবাইলের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউবা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। আবার কোনও কোনও মাদক ব্যবসায়ী তাবলীগ জামায়াতে যোগ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও চিল্লায় গেছেন। তবে ব্যাতিক্রম হিলি সীমান্তের চুড়িপট্টি এলাকা। এখনও ওই এলাকার মাদকব্যবসায়ীরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আগের চেয়ে খানিকটা পদ্ধতি পাল্টেছে। প্রতিদিন ভোর রাত থেকে রাত পর্যন্ত মাদক বেচাকেনার জন্য বাড়িতে অবস্থান করলেও রাত্রে এসব মাদক ব্যবসায়ী অন্য কোথাও গিয়ে রাত কাটায়। পরদিন আবারও একই স্থানে চলে আসছে। এভাবেই তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ এলাকায় মাদক সেবীদের আনাগোনাও বিশেষ করে হিরোইন সেবীদের আনাগোনা আগের মতোই রয়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মোস্তাফিজার রহমান বলেন,‘সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও হিলি সীমান্তের মাদক ব্যবসায়ীরা রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী গ্রাম চুড়িপট্টির যেসব বাড়িতে মাদক বিক্রি হতো সেখানে এখনো বিক্রি হচ্ছে। তাহলে হিলিতে কিসের মাদক বিরোধি অভিযান চলছে?’
হাকিমপুর থানার (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুর তথা হিলিতে প্রায় তিনশ’ জনের মতো মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারী ও সেবী রয়েছে। প্রতিনিয়ত এই সংখ্যা হালনাগাদ করা হয়। এই সংখ্যার মধ্যে যারা মাদক ব্যবসার মূল হোতা তাদের নামের তালিকা করে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অন্যদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমরা চাই ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ এই অভিযানকে সফল করতে। কোনও ভাবেই যেন এই অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে দিকে নজর রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গত এপ্রিল ও মে এই দুই মাসে ১৮৩২ বোতল ফেন্সিডিল, নেশাজাতীয় এ্যমপোল ১৩৬০পিস, ইয়াবা ট্যাবলেট ১২৫৯পিস, ইনজেকশন ৩৫০টি, মদ ১১ বোতল, গাঁজা ৯শ গ্রাম ও হেরোইন উদ্ধারসহ ১৪৪জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হাকিমপুর (হিলি) সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আখিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমি হাকিমপুর সার্কেলে যোগদানের পর থেকেই হাকিমপুর তথা হিলিকে মাদকমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এর ওপর চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে এই স্লোগানে সারাদেশে যে অভিযান চলছে তার অংশ হিসেবে হিলিতেও প্রতিদিন আমরা অভিযান পরিচালনা করছি এবং সে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই আমরা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আটক করছি এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করছি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সেই চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ’







