দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে গণপিটুনি দেওয়ার পর পুড়িয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। পরে দু’পক্ষের উত্তেজনায় ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়ক পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বীরগঞ্জ উপজেলার জগদল ডাঙ্গাপাড়া এলাকার সুরুজ মিয়া (৪৫) ও একই এলাকার তারামিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬)। আহতরা হলেন- একই এলাকার একটি মুরগি ফার্মের নৈশ প্রহরী শহীদ (৩০) ও তার তিন বছরের ছেলে একরামুল। তাদের মধ্যে শহীদকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও একরামুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার পথে সুরুজ মিয়া, শহীদ ও তার তিন বছরের শিশু একরামুলকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় একই এলাকার রবিউল ইসলাম। এতে ঘটনাস্থলেই সুরুজ মিয়া মারা যান। পূর্ব বিরোদের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর সকাল ৬টা থেকে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। পরে সকাল পৌনে ৮টার দিকে এলাকাবাসী রবিউলকে কাহারোল উপজেলার তের মাইল গড়েয়া নামক এলাকা থেকে ধরে নিয়ে এসে গণপিটুনি দেয়। পরে একপর্যায়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার জেরে সকাল থেকেই দফায় দফায় মহাসড়ক অবরোধ করে দু’পক্ষের লোকজন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সকাল ১০টার দিকে যানচলাচল শুরু হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, রবিউল এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২ মাস আগে সুরুজ মিয়ার ভাতিজা বশিরকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি।
বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিলা পারভীন।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








